পার্কচেস্টারে বাফার বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ
বাঙালী প্রতিবেদনঃ বৃষ্টিও নিবৃত্ত করতে পারেনি ব্রংক্সের বংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস বাফার বাংলা বর্ষবরণ উৎসব আয়োজনকে। ‘নতুন আলোয় বাঁধি পরান’ নামের এই বৈশাখী উৎসব ছিল দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথম পর্বে মঙ্গল শোভাযাত্রা আর দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বৃষ্টির কারণে পার্কচেস্টারে স্টার্লিং এভেন্যুতে শোভাযাত্রা না হলেও শিশু—কিশোর—কিশোরী থেকে শুরু করে বড়দের থামাতে পারেনি। পিএস ১০৬এর অভ্যন্তরে থিয়েটারের স্টেজের সামনে থেকে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন মোটিভ নিয়ে ঢোল বাজিয়ে গান গেয়ে নেচে এই শোভযাত্রা আইল দিয়ে বেরিয়ে লবি দিয়ে পৌঁছে ক্যাফেটারিয়ায়। শোভাযাত্রার সামনে ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদউল্লাহ সহ আবদুর রহিম বাদশা, তৈমুর শাহরিয়ার, আনোয়ারুল লাভলু, মুজাহিদ আনসারি, গোলাম মোস্তফা, সিরাজউদ্দিন আহমেদ, ফরিদা ইয়াসমিন, এজাজ আলম এবং শখানেক শিশু কিশোর। শোভাযাত্রার শেষে ছিলেন ব্রুকলীন বরো প্রেসিডেন্ট ভেনেসা গিবসন, স্টেট সিনেটর ন্যাটালিয়া ফার্নান্ডেজ, স্টেট এসেম্বলিসদস্য ক্যারিন্স রিজ, কাউন্সিল সদস্য আমান্দা ফারিয়াস ও জাস্টিন স্যানচেজ। ঢোলের তালে তালে তারা নাচতে নাচতে ক্যাফেটারিয়ায় যান।
ক্যাফেটারিয়ায় পৌঁছে সেখানে শফিক মিয়ার ঢোলের তালে তালে সকলে মিলে নেচে নেচে আনন্দ করেন। এরপর ব্রংক্স বরো প্রেসিডেন্ট সহ সিটি ও স্টেটের নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে ব্রংক্সের বাফা যেভাবে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের তাদের নিজের সংস্কৃতি চর্চায় ব্রত রেখেছে তার জন্য অকুণ্ঠ ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, ব্রংক্সের বৈচিত্রময় সংস্কৃতিতে বাঙালি সংস্কৃতি আরো বর্ণাঢ্য ভূমিকা পালন করছে। তারা সকলেই বাফার এই কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ক্যাফেটারিয়ায় আরো বক্তব্য রাখেন সৈয়দ মোহাম্মদউল্লাহ, মুজাহিদ আনসারি, আবদুর রহিম বাদশা, আনোয়ারুল লাভলু, ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ।
বাফার বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্ব উপস্থাপিত হয় স্কুল মঞ্চে। শিশু কিশোররা বর্ণাঢ্য গ্রুপ নাচের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। মিলনায়তন ভর্তি দর্শকদের সামনে বাফার পরবতীর্ আয়োজন ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত নৃত্যনাট্য চন্ডালিকার সংক্ষিপ্ত রূপ। এই চন্ডালিকার পূর্ণরূপ বেশ কয়েক বছর আগে বাফাই মঞ্চায়ন করে প্রশংসিত হয়েছিল। এবারও প্রকৃতির চরিত্রে ও বৌদ্ধ সন্ন্যাসী আনন্দের চরিত্রে অভিনয় করেন যথাক্রমে মারজিয়া স্মৃতি ও নাসিরুল্লাহ। তবে বেশির ভাগ নৃত্যশিল্পীই কিশোরী। কিশোরী হলেও তাদের সংক্ষিপ্ত পরিবেশনা দর্শকদের মন ভরিয়ে দিয়েছে। বাফা এই নৃত্যনাট্যাংশ পুনর্বার পরিবেশন করে জানিয়ে দিল তারা উচ্চ—নিচ, ধনী—গরিব, ইত্যাদি সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ। এই নৃত্যনাট্যের চমৎকার নির্দেশনা ও কোরিওগ্রাফ করেন মারজিয়া স্মৃতি নিজেই। মা চরিত্রে ছিলেন বাফার নৃত্য শিক্ষক রাধিকা স্যামসন। দই ও চুরিওয়ালা চরিত্রে প্রকৃতি চট্টোপাধ্যায়।
এরপর বাফার চার আবৃত্তিকার গোলাম মোস্তফা, আনোয়ারুল লাভলু, শাহরিয়ার তৈমুর ও দুররে মাকনুন নবনী আবৃত্তি করেন তিনটি কবিতা। শাহরিয়ার তৈমুর আবৃত্তি করেন নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ, আনোয়ারুল লাভলু আবৃত্তি ও গানের মধ্য দিয়ে উপস্থাপন করেন তোরা সব জয়ধ্বনি কর আর শাহরিয়ার ও নবনী আবৃত্তি করেন মালতীলতা বিদ্যালয়।
এরপর ২১ জন শিল্পী সম্মেলক কণ্ঠে পরিবেশন করেন ব্যর্থ প্রেমের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে আগুন জ্বালো। এই সুন্দর পরিবেশনাটিতে মহলার ছাপ ছিল স্পষ্ট। সব শেষে বাফার ৬ তরুণ গিটারিস্ট পরিবেশন করে লালনের ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ গান। ফিউশন স্টাইলে এবং সোচ্চার কণ্ঠে গাওয়ার কারণে দর্শকরা আনন্দে ফেটে পড়ে। গানটি শেষ হওয়ার পরও দর্শকদের অনুরোধে শিল্পীরা এই গানটির মুখ পুনর্বার পরিবেশন করেন।
বাফার এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ছোটদের নৃত্যে অংশ নেয় আফরিজা, পরমা, এলিনা, সুবহানা, সাইদা, সামিয়া, মেহনাজ, মেহজাবিন, আরিয়া, শ্রীময়ী, রাইসা, জিনান, লাবিবা, ওয়াফিকা, বরতিকা, তীর্থা, নীল। গানে অংশ নেয় সৌমদীপ, প্রিতম, অজুর্ন ১, শ্যাম, আরশী, আরোহী, অভ্র, বিজয়, এরন, তৃশান, ত্রিদিবা, ত্রিশুল, রিশব, দিজয়ন্ত, বিরিয়ানা, শুভশ্রী, আয়ান, গৌরব, আরিয়ান, প্রতীক, অরচিস্মিতা, রায়ান, সানবি, শাওন, বর্ণ, মানব, জয়িতা, নিভীর্ক, তামজিদ, আরিফ, সৌমিক, অরিয়ন, জাশ, জেনিফার, আরহাম, রুদ্র, রাহিত্য, আজওয়া, এলিনা, অজুর্ন, আশমিক, মেহনাজ, অংকিতা, নাজাহা, শন, তাহনিয়াত, লাবিবা, পারিসা, অহনা, অধরা, তাহিয়া, আরিম।
খাঁচার ভিতর অচিন পাখি পরিবেশন করেন মূল ভোকালিস্ট সাদ। গিটারে অভ্র, এ্যারন, আরিয়ান, অজুর্ন, তামজিদ, সাফিন ও মানব।
পুরো অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন গোলাম মোস্তফা, শামীম আরা ও দুররে মাকনুন নবনী।
