মেয়র অফিসের রাউন্ডটেবিলে পরিশ্রমী ইমিগ্রান্টদের সহায়তার প্রতিশ্রম্নতি

বাঙালী প্রতিবেদনঃ নিউইয়র্ক সিটির স্বল্প আয়ের ইমিগ্রান্ট ওয়ার্কারদের স্বার্থরক্ষায় তাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রম্নতিসহ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তা এবং ট্যাক্সি ড্রাইভারদের নানাভাবে সাহায্য করার জন্য বর্তমান প্রশাসন যে ভূমিকায় অবতীর্ণ, তা তুলে ধরার উদ্দেশে মেয়রস অফিস অব ইমিগ্রান্টস এফেয়ার্স বা সংক্ষেপে মোইয়া একটি রাউন্ডটেবিলের আয়োজন করে। গত বুধবার সিটিহলে আয়োজিত রাউন্ডটেবিলে যোগ দেন মোইয়া কমিশনার ফাইজা আলীসহ ইকোনমিক জাস্টিস বিষয়ক ডেপুটি মেয়র জুলি সু, ডিপার্টমেন্ট অব কনজ্যুমার এন্ড ওয়ার্কার প্রটেকশনের কমিশনার স্যামুয়েল লেভিন, ট্যাক্সি এন্ড লিমুজিন কমিশনের কমিশনার মিদোরি ভালডিভিয়া এবং স্মল বিজনেস সার্ভিসের ডেপুটি কমিশনার কিটি চ্যান।

শুরুতেই সকলকে স্বাগত জানান কমিশনার ফাইজা আলী। তিনি বলেন, আজ আমরা ডেপুটি মেয়র জুলি সু সহ তিনটি এজেন্সির কমিশনার এবং ডেপুটি কমিশনারকে পেয়েছি। তারা এই সিটির ইমিগ্রান্টদের জন্য তাদের কর্মসূচী তুলে ধরবেন।

ডেপুটি মেয়র সু নিউইয়র্ক সিটির এথনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা আমাদের সিটি হলের সবচেয়ে বিশ্বস্ত প্রতিনিধি। আপনারা আপনাদের নিজ নিজ কম্যুনিটির কাছে সিটির বিভিন্ন কর্মসূচীসহ সুযোগ সুবিধার খবর পৌঁছে দেন। আমাদের সকলের উদ্দেশ্য এক। আমরা এই সিটির দরিদ্র স্বল্প আয়ের মানুষদের বিশেষ করে ইমিগ্রান্টদের সহায়তা করতে চাই। কারণ নানা কারণে তাদের পক্ষে সিটির বিভিন্ন ধরনের সহায়তার খবর পাওয়া সম্ভব নয়।

ডেপুটি মেয়র বলেন, আমরা চাই ইমিগ্রান্টরা নিরাপদে থাকুক। কাজ শেষে যেন নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে তার নিশ্চয়তা দেয়া আমাদের দায়িত্ব।

কনজ্যুমার ডিপার্টমেন্টের কমিশনার স্যমুয়েল লেভিন বলেন, আমরা চাই ইমিগ্রান্টরা যেন এই সিটি কিংবা বিশেষত আমাদের ডিপার্টমেন্ট কি কি সুযোগ সুবিধা দেয় তাদের জন্য সে বিষয়ে ওয়াকিবহাল থাকে। তারা যেন জানে, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বা প্রয়োজনে কীভাবে সংশ্লিষ্ট দফতরে রিপোর্ট করতে হয়। এমন কি কাজের জায়গায় কিছু ঘটলেও যেন তারা রিপোর্ট করতে দ্বিধা না করে।

কমিশনার লেভিন বলেন, আমাদের কাছে খবর আছে, দুবৃর্ত্তরা দরিদ্র আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্টদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে গ্রিনকার্ড দেয়ার প্রতিশ্রম্নতি দিচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং ফ্রড। এই ধরনের প্রতিশ্রম্নতিতে বিশ্বাস করে কেউ যেন অসাধু ব্যক্তিদের অর্থ প্রদান না করে সে বিষয়ে সচেতন করার অনুরোধ জানান।

কমিশনার লেভিন বলেন, ইমিগ্রান্টরা কঠোর পরিশ্রম করে মিনিমাম ওয়েজে অর্থ উপার্জন করে দেশে তাদের পরিবারের কাছে পাঠায়। অথচ ফেডারেল সরকার তাদের এই রেমিটেন্সের ওপর % ট্যাক্স আরোপ করেছে। মেয়র মামদানিই প্রথম মেয়র যিনি এই ট্যাক্স প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানিয়ে ফেডারেল সরকারের কাছে চিঠি লিখেছেন।

নিউইয়র্ক সিটির স্মল বিজনেস সার্ভিসেসের ডেপুটি কমিশনার কিটি চ্যান বলেন, আগামী ২৮ মে দিনব্যাপি আমরা স্মল বিজনেস মানথ এক্সপোর আয়োজন করছি ম্যানহ্যাটানের ৬০ পাইন স্ট্রিটে। এই এক্সপোতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে ওয়ার্কশপ নেটওয়ার্কিং হবে। সেই সাথে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যে ৬টি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, তা সমাধানের লক্ষ্যে পরামর্শ দেয়া হবে।

ট্যাক্সি এন্ড লিমুজিন কমিশনের কমিশনার মিজোরি ভ্যালিডিভিয়া বলেন, আমাদের সিটিতে প্রায় ১৮০,০০০ মানুষ ট্যাক্সি ড্রাইভিংএর সাথে জড়িত। আমি নিজে ইমিগ্রান্ট। আমার বাবামা পেরুভিয়ান। আমার জন্ম জাপানে। আমি এই সিটিতে কঠোর পরিশ্রম করা মানুষদের মনোস্তত্ত্ব বুঝতে পারি। তাদের পরিশ্রমকে সম্মান জানানোর প্রাথমিক অবস্থা হচ্ছে এই ব্যক্তিদের সম্মান জানানো।

শেষে কমিশনার ফাইজা আলীসহ অন্য কমিশনারবৃন্দ ডেপুটি মেয়র সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

Related Posts