মেন্টাল হেলথ মাস উপলক্ষে দাদা হেলথকেয়ারে মূল্যবান সেমিনার

বাঙালী প্রতিবেদনঃ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী মোটিভেশনাল আলোচনা অনুষ্ঠান হলো গত শনিবার ব্রংক্সের পার্কচেস্টারে। মেন্টাল হেলথ এওয়ারনেস মানথ উপলক্ষে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে ব্যক্তি পারিবারিক পর্যায়ে কী করা যেতে পারে এমন বিষয়ে এই মূল্যবান অনুষ্ঠানের আয়োজক যৌথভাবে দাদা সোশাল হেলথ কেয়ার, মজুমদার ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ আমেরিকা কম্যুনিটি কাউন্সিল আবেদা কেয়ার্স। অনুষ্ঠানের মূল আলোচক ছিলেন আবেদা কেয়ার্সের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, মেন্টাল হেলথ ট্রেইনার চ্যাপলেইন আবেদা খানম এবং . মোহাম্মদ শাহজাহান। তাদের সাথে ছিলেন দাদা সোশাল হেলথ কেয়ারের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর নাজিব খান।

শুরুতেই স্বাগত ভাষণে মোহাম্মদ এন মজুমদার অত্যন্ত চমৎকারভাবে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে এই ধরনের কম্যুনিটি কনভারসেশন আয়োজনের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের মূল বক্তা কিউনির সাবেক শিক্ষক আবেদা খানম ইন্টারেকটিভ পদ্ধতিতে তার আলোচনায় উপস্থিত ব্যক্তিদের মতামত সংগ্রহ করে বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, আমাদের সকলেরই কম বেশি মানসিক সমস্যা আছে। তাই সকলেই নিজেদের মত করে নিজেদের ভাল রাখতে পারেন। যার যা পছন্দ, কিংবা যে যা করতে পছন্দ করে তা করার মধ্য দিয়ে নিজেদের ভাল রাখতে পারেন। তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিউইয়র্ক সিটিতে অনেক রিসোর্স আছে। কিন্তু আমরা অনেকেই সে সম্পর্কে অবহিত নই।

আবেদা খানম বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে আমাদের প্রত্যেককে সচেতন থাকতে হবে। কেবল হতাশ হয়ে, মন খারাপ করে বসে থাকলে হবে না। সকলের মধ্যে কৃত্রিম নয়, জেনুইন ফিলিংস থাকতে হবে। নিজেকেই প্রশ্ন করতে হবে আমি কি হোপফুলের পক্ষে, নাকি হোপলেসের পক্ষে। আমাদের নেতিবাচক বিষয়গুলো, চিন্তাগুলো পরিহার করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা অনেকেই শান্তি খুঁজি নানা বিষয়ে। কেউ গান শুনে, কেউ বই পড়ে, কেউ বাগান করে, কেউ খেলাধূলা করে। আমরা স্ট্রেসড হলে প্রথমে আল্লাহকে স্মরণ করি। আল্লাহর প্রতি নিবেদিত থেকে, ধর্মকর্মের মধ্য দিয়ে যদি কেউ শান্তি পায়, দুি্শ্চন্তা কমাতে পারে তাহলে তাই করা উচিত।

আবেদা খানম বলেন, দুঃখের বিষয় হলো, বাংলাদেশ কম্যুনিটিতে মেন্টাল হেলথের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয় না। আমরা অনেকে মনে করি আল্লাহ আমাদের জন্য সব কিছু করে দেবেন। প্রকৃত সত্য হলো ফেইথ যেমন জরুরী, তেমনই এ্যাকশনও জরুরী। নিজেকে উদ্যোগ নিতে হয়।

পরামর্শ দিয়ে আবেদা খানম বলেন, আপনি যা বিশ্বাস করেন, তাতেই বিশ্বাস রাখবেন এবং আকড়ে ধরে রাখবেন, তাহলে আপনি শান্তি পাবেন। তিনি বলেন, আমরা অনেকেই অর্থের পিছনে ছুটি, অনেকে শিখড়ে যাওয়ার জন্য জীবনপাত করি। প্রকৃতপক্ষে এইসবই মানসিক অসুস্থতা বয়ে আনে।

আবেদা খানম উপস্থিত সকলকে পৃথক পৃথকভাবে জিজ্ঞাসা করেন মানসিক স্ট্রেসের সময় তিনি কীভাবে শান্তি খোঁজেন। সকলেই নিজের নিজের কথা তুলে ধরলে অন্যের কাছেও তা শিক্ষণীয় হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন . মোহাম্মদ শাহজাহান এবং দাদা সোশাল হেলথ কেয়ারের নাজিব খান।

সবশেষে মোহাম্মদ মজুমদার সকলকে ধন্যবাদ জানান।

Related Posts