বিশ^কাপের উদ্বোধনী মঞ্চে থাকবেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত সঞ্জয়
ঢাকা থেকেঃ মাঠে না থাকলেও ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে থাকছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব। মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি, ব্ল্যাকপিঙ্ক তারকা লিসার সঙ্গে উদ্বোধনী আয়োজনে পারফর্ম করবেন বাংলাদেশী—মার্কিন ডিজে সঞ্জয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের মঞ্চে ওঠার এ যাত্রাকে তিনি বলেছেন ‘অবিশ্বাস্য অনুভূতি’।
আগামী ১১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে হবে এ আয়োজন। বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের সামনে পারফর্ম করার সুযোগ শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, দুই সংস্কৃতির ভেতরে বেড়ে ওঠা অভিবাসী তরুণদের অনুপ্রেরণা মনে করছেন সঞ্জয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দক্ষিণ এশীয় সংগীতশিল্পীদের প্রতিনিধিত্ব করার এ মুহূর্তকে তিনি সংগীতজীবনের বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। যৌথভাবে এবার ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। তিন দেশেই আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। তিন দেশে উদ্বোধনী ম্যাচগুলোর আগে পারফর্ম করার জন্য বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করেছে ফিফা। তালিকায় আছেন বাংলাদেশের তরুণ গায়ক ও ডিজে সঞ্জয়।
সঞ্জয় বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে আমার সঙ্গে ফিফা কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করে। এরপর জানতে পেরেছি, বিশ্বকাপের মঞ্চে পারফর্ম করছি। আমি অনেক ভাগ্যবান—ফিফা কর্তৃপক্ষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানায়, সেখানে আমিও আছি। পুরো বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ও দোয়ার কারণে হয়তো এটা করতে পেরেছি।’ সঞ্জয় জানান, মা—বাবা তখনো জানেন না ছেলের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার খবর। বাসায় পৌঁছে মা—বাবাকে খবরটি দিতে চান।
সিলেটের শ্রীমঙ্গলে জন্ম নেওয়া সঞ্জয় বলেন, ‘এখনো বিস্তারিত কিছুই জানি না। কতটা সময় আমার জন্য বরাদ্দ, তা—ও নিশ্চিত নই। শুধু আমাকে এটা বলা হয়েছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমি থাকছি। কী করব এখনো কিছু ভাবিনি। আমার চাওয়া থাকবে, বিশ্বকাপের মঞ্চে আমার দেশের কালচারকে কীভাবে রিপ্রেজেন্ট করা যায়।’
জন্ম শ্রীমঙ্গলে হলেও সঞ্জয়ের বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামের লাভ লেন এলাকায়। তিনি বলেন, ‘তখন আমার মা মিতা দেব রেডিও—টেলিভিশনে গান গাইতেন। পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও গাইতেন। তবে পেশা হিসেবে বেছে নেননি।’
সবশেষে সঞ্জয় বললেন, ‘বাংলাদেশীদের বলতে চাই, এটা মাত্র শুরু। আপনারা শুধু সংগীত ও শিল্পীদের সমর্থন ও ভালোবাসা দিয়ে যান। আমাদের টাকার দরকার নেই, অন্য কোনো কিছুর দরকার নেই। আমাদের দরকার শুধু দেশের মানুষের সমর্থন ও ভালোবাসা। দেশের মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন পেলে আমরা বাংলাদেশকে গর্বিত করে—এমন কাজই করে যাব।’
সঞ্জয় ইতিমধ্যে তাঁর কাজ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার শ্রোতাদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। নিউইয়র্ক টাইমস তাঁকে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত দক্ষিণ এশীয় ইলেকট্রনিক সংগীতশিল্পীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
