যাই কিছু জানি, যেন বই পড়ে জানি || মনজুর কাদের

প্রতিদিন এটা সেটা

কত কিছু জানি

যাই কিছু জানি, যেন

বই পড়ে জানি

আমাদের জানার পদ্ধতিটা অদ্ভুত। বেশীর ভাগ জানারই কোন নির্ভরযোগ্য উৎস নেই। এমনি এমনি জানি। এর কাছ থেকে ওর কাছ থেকে জানি। দুঃখের বিষয় হলো এসব জানার বেশির ভাগই ভুল। কেউ এসে সঠিকটা ধরিয়ে দিতে চাইলে আমরা মারমুখী হয়ে উঠি। আমি যেটা জানি সেটাকেই সঠিক জ্ঞান করে সঠিক তথ্য জানার সব কটি আগল বন্ধ করে রাখি যাতে কোনোভাবেই সঠিক তথ্য এসে আমার বদ্ধমূল বেঠিক জানাটাকে শুদ্ধ করে দেয়ার কোন সুযোগই না পায়।

এই অচলায়তন ভাঙা খুবই জরুরি। এটা ভাঙতে পারে কেবল পাঠাভ্যাস। মানুষে মানুষে তফাৎ হলো শিক্ষা। আর শিক্ষার ভিত্তিই হলো বই পড়া। বই মানুষের ভেতরের আঁধার দূর করে আলোকের বুনন তৈরি করে।

নিউইয়র্কে দীর্ঘদিন থেকেই বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতে করে যে পাঠক কেবল বই পড়ার সুযোগ পেয়েছে তাই নয়, দুই বাংলার বিদ্বান, কবি, লেখক, শিল্পী বিভিন্ন ক্ষেত্রে খ্যাতিমান মানুষদের সাহচর্যে আসার সুযোগ পেয়েছে। বইমেলা প্রবাসী বাঙালিদের এক অমূল্য প্রাপ্তি।

সময়ের প্রয়োজনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিউইয়র্কে আলাদা করে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলা আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

সরকারি প্ররোচনায় অবাধ মবাচারের মাধ্যমে জাতির শ্রদ্ধেয়জন, বর্ষিয়ান, শিক্ষাবিদ শিক্ষকদের অপদস্থ করা, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক বিনষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা, সংবিধান তছনছের আয়োজন, জাতীয় সঙ্গীত পদদলিত করার দুঃসাহস, জাতীয় পতাকা জাতির জনকের অবমাননা, মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার বত্রিশ নম্বর গুড়িয়ে দেয়া সহ অসংখ্য হৃদয় বিদারক ঘটনা প্রবাহ এবং এসব ঘটনাপ্রবাহে প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ইন্ধনদাতা বা সমর্থনকারীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বইমেলা আয়োজনে আদর্শগত বৈপরিত্য প্রকট হওয়ায় স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি আলাদাভাবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ফলশ্রুতিতে ২০২৫ সাল থেকে নিউইয়র্ক শহরে আলাদাভাবে বইমেলা আয়োজিত হয়ে আসছে এবং এটি স্থায়ী হবে বলেই আয়োজকরা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।

এতে অবশ্য লাভ হয়েছে পাঠকদেরই। তারা দুটো বইমেলাই উপভোগ করার সুযোগ পাবে। এটাতো ঠিক যে যতবেশি বই মেলা ততবেশি আলোকের উৎস। বাংলাদেশেও একসময় শুধু একুশের বইমেলা হতো। এখন প্রতিটি জেলায় জেলায় নিয়মিত বইমেলা হচ্ছে। এসবই হচ্ছে আশার কথা।

যদিও একথা ঠিক অদূর ভবিষ্যতে বইয়ের প্রকৃতি পরিবর্তন হয়ে যাবে। হয়তো বইমেলার প্রকৃতিও পরিবর্তিত হবে। এখন যেমন বই কিনে মলাট খুলে পাতার পর পাতা উল্টিয়ে পাঠের সুখ আস্বাদন করা হয়, তখন হয়তো এরকম বই আর থাকবে না। ঠিক যেমনটি ইয়াসিকা ক্যামেরা বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং পোস্ট বক্সও বিলুপ্তির পথে। সেদিন হয়তো বেশি দূরে নয় যেদিন বই মেলাও হবে, বইয়ের স্টলও থাকবে তবে ছাপানো কোনো বই থাকবে না। প্রতিটি স্টলে কেবল কিছু ক্যাবল আর ওয়েবলিংক থাকবে। পাঠক এসে নির্দিষ্ট লিংকে ক্লিক করে বই পড়বে। এতে বইমেলাও হাতের মুঠোয় চলে আসবে আর বই ছাপানোর কাঁচামাল কাগজের মন্ড তৈরির জন্য কোটি কোটি বৃক্ষ নিধন থেকেও প্রকৃতি রক্ষা পাবে।

শেষ কথা হলো, যতবেশি বইমেলা, ততবেশি বইয়ের যোগান। যতবেশি বইয়ের যোগান ততবেশি পাঠক। যতবেশি পাঠক তত সত্য মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণকারী।

আমরা চাই আরও বেশি বইয়ের যোগান হোক। আরও বেশি পাঠক বাড়ুক। এর ওর কাছ থেকে ভুল তথ্য না জেনে পাঠক যাই কিছু জানবে যেন বই পড়ে সঠিক তথ্যটি জানার সুযোগ পায়। 


Related Posts