আমেরিকার ইমিগ্রেশন বিভাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ || ১ বিলিয়ন ডলার ফিস নিলেও সার্ভিস দিচ্ছে না
বাঙালী প্রতিবেদনঃ আমেরিকার নির্দলীয় ইন্সটিটউট কেটোর ডেভিড জে. বিয়ের একটি প্রতিবেদনে ইউএস সিনেটে দেয়া তার একটি টেস্টিমোনিতে বলেন, আমেরিকার ইমিগ্রেশনের ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য প্রতারণা চলছে এখন। তিনি তার এক নিবন্ধে এ প্রসঙ্গে লেখেন ইউএস সরকার ইমিগ্রান্ট এবং ইউএস স্পন্সরদের কাছ থেকে ফিস নিচ্ছে যে সার্ভিস প্রদানের জন্য, তারা জানে সেই সার্ভিস তারা দেবে না। ফলে তার ফিস বাবদ অর্থ নিচ্ছে এবং বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে আবেদনকারীদের আবেদন নাকচ করা হচ্ছে। এমন কি স্টেট ডিপার্টমেন্ট বিভিন্ন দেশে তাদের কনসুলেট অফিসকে জানিয়েছে, তারা যেন ভবিষ্যতে যারা আবেদন করবে তাদেরকে নোটিফাই না করে যে, আমেরিকা তাদের নিষিদ্ধ করেছে। তারা আবেদন করার সময় ফিস দেয় এবং পরে জানায় তাদের আবেদন নাকচ করা হয়েছে। মি. ডেভিড বিয়ের বলেন, সম্ভবত এই নাকচ করা আবেদন থেকে আমেরিকা ১ বিলিয়ন ডলার প্রতারণার মাধ্যমে আয় করেছে। কারণ যে সার্ভিস দেয়ার জন্য ফিসের অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে সে সার্ভিস কখনোই প্রদান করা হয়নি। তিনি বলেন, এমন কি রিপাবলিকান দলীয় সিনেটর লুইজিয়ানার জন কেনেডি তাকে উক্ত শুনানিতে জানান যে তিনি এই খবরে অত্যন্ত মর্মাহত। তবুও তা ঘটে চলেছে।
মি. বিয়ের উদাহরণ দিয়ে বলে, গত ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন যাতে বলা হয় ৪০টি দেশের নাগরিকদের প্রায় সব ধরনের ভিসা সহ আমেরিকায় আসা নিষিদ্ধ। এর আগে গত বছর জুন মাসে ১৯টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে আসা আংশিক নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু ঐসব দেশের কনস্যুলার অফিসারদের বলা হয় তারা যেন কোনো আবেদনকারীকে আগে কিছু না জানায়। ফলে ভিসা আবেদন করার সময় যাবতীয় ফিস প্রদান করা হয় আবেদনের সাথে। কিন্তু ইন্টারভিউতে নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী তাদের আবেদন নাকচ করা হয়।
এরপর নতুন নির্দেশনায় ৭৫টি দেশের ভিসা আবেদনকারীদের আবেদন ফ্রিজ করা হয় (এর মধ্যে বাংলাদেশও আছে)। কিন্তু এইসব দেশের আবেদনকারীরা ইতিমধ্যেই তাদের প্রয়োজনীয় ফিস জমা দিয়েছেন। সেই অর্থও রয়ে গেছে কনস্যুলার অফিসে।
মি. বিয়ের তার নিবন্ধে আরো লেখেন ২০২৪ সালে ৯২টি দেশ থেকে ৩২০,০০০ ব্যক্তি ইমিগ্রান্ট ভিসার জন্য আবেদন করেছিল। তাদের উক্ত সব আবেদনই আটকে দেয়া হয়েছে। এর পর ২০২৫ সাল পর্যন্ত বৈধভবে গ্রিনকার্ড পাওয়ার জন্য ৫৬১,০০০ আবেদন ব্লক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ডিভি লটারিতে বিজয়ীদের ভিসা প্রদানও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলছে, ডিভি লটারিতে বিজয়ীরা তাদের ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন এবং ইন্টারভিউতেও হাজির হতে পারেন। স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের ইন্টারভিউএর জন্য স্ক্যাজুলও দিচ্ছে। কিন্তু কোনো ডাইভারসিটি ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে না।
তিনি বলছেন, ইমিগ্রেশন সার্ভিস থেকে ইউএসসিআইএস এর রেভিনিউ বছরে ৭ বিলিয়ন ডলার। আর কনস্যুলার এ্যাফেয়ার্সের বাজেট ৬ বিলিয়ন ডলার।
উল্লেখ্য, ইউএস ইমিগ্রেশনে দেয়া কোনো ফিসের অর্থ ফেরত দেয়া হয় না।
