ডায়াবেটিসে দৃষ্টিশক্তি কেন কমে?

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে রোগের হাত ধরে আরো হাজারটা রোগ শরীরে বাসা বাঁধে। দীর্ঘ দিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগলে প্রভাব পড়তে পারে চোখের ওপরেও। বৃদ্ধ বয়সে অনেকেই চোখে ঝপসা দেখেন। অনেকের মনে হতেই পারে, হয়তো চোখে ছানি পড়েছে। তবে সাবধান, ডায়াবেটিকদের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় অনেকখানি। আর তা ডেকে আনে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির মতো অসুখ। ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীর চোখের রেটিনার অংশে রক্তবাহী সরু ধমনীগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে এক প্রকার ফ্লুইডের ক্ষরণ শুরু হয়। এর কারণেই দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। এর পরবর্তী পর্যায়ে ধমনীতে রক্ত চলাচলের সমস্যা আরো বাড়ে। রেটিনার বিভিন্ন অংশে ঠিকমতো অক্সিজেন পৌঁছতে না পেরে চোখে রক্তক্ষরণ শুরু হয়, ডাক্তারি পরিভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় ভিট্রিয়াস হেমারেজ। এই হেমারেজের কারণে আসতে পারে অন্ধত্ব।

ডায়াবেটিস রোগীর চোখের দৃষ্টি ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যাওয়া।

কিছু পড়তে বা দূরের জিনিস দেখতে সমস্যা হওয়া।

রং বুঝতে সমস্যা হওয়া।

হঠাৎ চারদিক অন্ধকার দেখা, নির্দিষ্ট কোনো অংশ দেখতে না পাওয়া এবং আচমকা আলোর ঝলকানি দেখা।

চোখের সামনে পোকার মতো কিছু ঘুরে বেড়াচ্ছে মনে হওয়া।

ডায়াবেটিস কী?

ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যা রক্তে সুগারের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বাড়িয়ে দেয়। ইনসুলিন নামের একটি হরমোনে আপনার রক্তে সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এই হরমোনটি পাকস্থলীর পেছনে থাকা অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস নামের একটি গ্রন্থি থেকে তৈরি হয়। যখন খাবার পরিপাক হয়ে আপনার রক্তে প্রবেশ করে, তখন এই ইনসুলিন রক্ত থেকে সুগারকে (গ্লুকোজকে) কোষের ভেতরে ঢুকিয়ে সেটাকে ভেঙ্গে শক্তি উৎপাদন করে। কিন্তু ডায়াবেটিস হলে আপনার দেহ সুগার তথা গ্লুকোসকে ভেঙ্গে এভাবে শক্তি উৎপাদন করতে পারে না।

ডায়াবেটিস হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা ভালো। শুরু থেকেই চিকিৎসা নিলে ডায়াবেটিসের সাথে অন্যান্য রোগের ঝুঁকিও অনেক কমে যায়। 

সুগারের মাত্রা কত হলে বুঝবেন ডায়াবেটিস?

সাধারণত রক্তে সুগারের মাত্রা যদি পয়েন্টের উপরে চলে যায়, আমরা তাকে ডায়াবেটিস বলি। তবে এই হিসেবটা খালি পেটের। ভরা পেটে বা খাবার ঘণ্টা পরে রক্তে সুগারের মাত্রা ১১. পয়েন্টের বেশি হলে তাকে ডায়াবেটিস ধরা হয়। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা জরুরি। শুরু থেকেই চিকিৎসা গ্রহণ করলে ডায়াবেটিসের সাথে অন্যান্য রোগের ঝুঁকিও অনেক কমে যায়।

সুগার কেন বেশি হয়

রক্তের সুগার বেশি হওয়ার মূল কারণ শরীরে ইনসুলিন নামের হরমোনের কাজে ব্যাঘাত ঘটা। ইনসুলিন আপনার রক্তে সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এই হরমোনটি পাকস্থলীর পেছনে থাকা অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস নামের একটি গ্রন্থি থেকে তৈরি হয়। যখন খাবার পরিপাক হয়ে আপনার রক্তে প্রবেশ করে, তখন এই ইনসুলিন রক্ত থেকে সুগার (গ্লুকোজকে) কোষের ভেতরে ঢুকিয়ে সেটাকে ভেঙ্গে শক্তি উৎপাদন করে। কিন্তু ডায়াবেটিস হলে আপনার দেহ সুগার তথা গ্লুকোসকে ভেঙ্গে এভাবে শক্তি উৎপাদন করতে পারে না।

এমন কোন নির্দিষ্ট একটি খাবার নেই যা আপনাকে ডায়াবেটিস থেকে সারিয়ে তুলবে। তবে বিভিন্ন গবেষণায় অতিরিক্ত ওজন এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবের সাথে ডায়াবেটিসের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তাই ওজন কমানো হতে পারে ঘরোয়াভাবে ব্লাড সুগার কমিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে আনার প্রথম ধাপ।

ওজন কমানোর জন্য একটি সুষম, স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকা মেনে চলা জরুরি। 

ওজন কমাতে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা করা জরুরী। প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে আড়াই ঘণ্টা ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। 

পরামর্শের জন্য যোগাযোগঃ পার্কচেস্টার মেডিকেল সার্ভিস ৭১৮৮২৮৬৬১০

Related Posts