চ্যাম্পিয়ন্স লীগঃ হাল্যান্ডের রেকর্ডের ম্যাচে সিটির হ্যাটট্রিক পিএসজি, লিভারপুল ও আর্সেনালের জয়
স্পোর্টস প্রতিবেদনঃ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু হলো প্যারিস সাঁ জার্মেইর গোলবন্যায়। ফেরান তোরেসের হ্যাটট্রিক আর ওসমান দেম্বেলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে স্লোভান ব্রাতিস্লাভাকে ৬—১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। নিজেদের মাঠ পার্ক দে প্রিন্সেসে বুধবারের ম্যাচে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ না দিয়ে বড় জয় তুলে নেয় লুইস এনরিকের দল। গত মৌসুমের ব্যালন ডি’অরজয়ী দেম্বেলে প্রথমার্ধের মাঝপথেই জোড়া গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পিএসজির হাতে তুলে দেন। এরপর বার্সেলোনা থেকে গ্রীষ্মে পিএসজিতে যোগ দেওয়া তোরেসকে দিয়ে আরও একটি গোল করান তিনি। ফলে বিরতিতেই ৩—০ গোলে এগিয়ে যায় ফরাসি ক্লাবটি।
দ্বিতীয়ার্ধে ফিরেই গোলের উৎসব আরও জমিয়ে দেন তোরেস। বিরতির পর দ্রুত দুই গোল করে ৫৯ মিনিটের মধ্যেই নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন স্পেনের এই ফরোয়ার্ড। স্লোভানের হয়ে একটি গোল শোধ করেন সুলেইমান কামারা। এরপর ফাবিয়ান রুইজ গোল করে পিএসজির ৬—১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।
দুই দলের শক্তির পার্থক্য বিবেচনায় পিএসজির জয় নিয়ে খুব একটা সংশয় ছিল না। স্লোভাকিয়ার চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ম্যাচটি মূলত আরও কঠিন পরীক্ষার আগে নিজেদের প্রস্তুত করে নেওয়ার সুযোগই ছিল এনরিকের দলের জন্য। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরের দুই ম্যাচেই অবশ্য বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে পিএসজির জন্য। অক্টোবরে ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলতে যাবে তারা, এরপর নিজেদের মাঠে আতিথ্য দেবে বার্সেলোনাকে।
টানা তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের লক্ষ্য পিএসজির। আধুনিক চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ২০১৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টানা তিনবার শিরোপা জেতা রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে এই কীর্তি গড়তে চায় তারা। পুরোনো ইউরোপিয়ান কাপের সময়ে অবশ্য আয়াক্স ও বায়ার্ন মিউনিখও টানা তিনবার শিরোপা জিতেছিল।
ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলে লিভারপুলের প্রত্যাবর্তন
অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ২—১ গোলে জয় দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযান শুরু করেছে লিভারপুল। দলের জয়ের নায়ক আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্তার। নতুন চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করার একদিন পরই জয়সূচক গোল করে মাঠে নিজের জবাব দিয়েছেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। ম্যাচের শুরুতেই মার্কোস ইয়োরেন্তে গোল করে অ্যাতলেতিকোকে এগিয়ে দেন। তবে বিরতির আগেই ডমিনিক সোবোসলাইয়ের গোলে সমতায় ফেরে লিভারপুল। এরপর ম্যাচের শেষদিকে বক্সের প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠিয়ে লিভারপুলকে জয় এনে দেন ম্যাক অ্যালিস্তার। তবে জয়ের রাতেও লিভারপুলের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে এসেছে ব্র্যাডলি বারকোলার চোট। নতুন এই ফরোয়ার্ড কাফের চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন।
এই ম্যাচে লিভারপুলের আক্রমণভাগে একসঙ্গে খেলেছেন ১০ কোটি পাউন্ডের বেশি দামে কেনা তিন ফুটবলার—বারকোলা, আলেক্সান্ডার ইসাক ও ফ্লোরিয়ান ভির্টজ। লিভারপুলের হয়ে অ্যানফিল্ডে এটি ছিল বারকোলার অভিষেক।
ওডেগার্ডের গোলে নাপোলিকে হারাল আর্সেনাল
কঠিন লড়াইয়ের পর নাপোলিকে ১—০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শুরু করেছে আর্সেনালও। ইতালির নেপলসে ম্যাচের বেশির ভাগ সময় আধিপত্য দেখিয়েও গোল পাচ্ছিল না ইংলিশ ক্লাবটি। শেষ পর্যন্ত ৭৫ মিনিটে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের দুর্দান্ত শটেই খুলে যায় ম্যাচের তালা। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া ওডেগার্ডের শট পোস্টে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। সেই গোলেই জয় নিশ্চিত হয় আর্সেনালের। গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পিএসজির কাছে টাইব্রেকারে হেরে শিরোপা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল আর্সেনাল। এবার শুরুতেই কঠিন পরীক্ষায় পাস করল মিকেল আর্তেতার দল। চলতি মৌসুমেও দারুণ ছন্দে আছে আর্সেনাল। প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করে টানা তিন জয় পাওয়া দলটি এবার ইউরোপেও পেল শুভসূচনা। অন্যদিকে নাপোলির জন্য এটি টানা তৃতীয় পরাজয়।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আর্সেনালের পরবর্তী ম্যাচ ১৩ অক্টোবর ঘরের মাঠে লিলের বিপক্ষে। একই দিনে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ভিয়ারিয়ালের মাঠে খেলবে নাপোলি।
হাল্যান্ডের রেকর্ডের ম্যাচে সিটির হ্যাটট্রিক
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুমে দারুণ ছন্দে আছে ম্যানচেস্টার সিটি। শনিবার রাতে ঘরের মাঠে কভেন্ট্রি সিটিকে ১—০ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। একমাত্র গোলটি করে রেকর্ডের পাতায় নাম লিখিয়েছেন আর্লিং হাল্যান্ড। ম্যাচজুড়ে বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল সিটির। প্রায় ৭৮ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখে মোট ১১টি শট নেয় স্বাগতিকরা। এর মধ্যে তিনটি ছিল লক্ষ্যে, তবে শেষ পর্যন্ত গোল এসেছে একটিই। শুরুতে অবশ্য ভুলের কারণে বিপদে পড়েছিল সিটি। ব্যাক পাস ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারায় গোল হজম করতে বসেছিলেন গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। শেষ মুহূর্তে গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দলকে রক্ষা করেন তিনি। পরে দোন্নারুম্মাকে একা পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি কভেন্ট্রি। ২৬ মিনিটে সিটিকে এগিয়ে দেন হাল্যান্ড। অ্যান্তনিও সিমেনিওর ক্রসে সবার ওপরে উঠে দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড। এই গোলের মাধ্যমে প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে হেডে ২০ গোল হলো হাল্যান্ডের। ক্লাবটির হয়ে হেডে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড এখন তার দখলে। এর আগে ১৯টি করে এই রেকর্ড ধরে রেখেছিলেন সার্জিও আগুয়েরো।
গোলটি ছিল হাল্যান্ডের ক্লাব ক্যারিয়ারের ৩০০তম। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ১৬৫টি, বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে ৮৬টি, রেড বুল সালজবুর্গের হয়ে ২৯টি এবং মোলদে এফকের হয়ে ২০টি গোল করেছেন তিনি। নরওয়ের জাতীয় দলের হয়ে তার গোল ৬২টি।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়িয়েছিলেন হাল্যান্ড। ৬০ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের পাস থেকে গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। এরপর আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও দ্বিতীয় গোলের দেখা পায়নি সিটি। তিন ম্যাচে তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। অন্যদিকে তিন ম্যাচেই হেরে পয়েন্টহীন কভেন্ট্রি সিটি টেবিলের তলানিতে।
