উয়েফা সুপার কাপঃ টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন পিএসজি

স্পোর্টস প্রতিবেদনঃ নতুন মৌসুমের শুরুতেই শিরোপা জয়ের আনন্দে মাতলো পিএসজি। অস্ট্রিয়ার সালজবুর্গে বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত উয়েফা সুপার কাপের ফাইনালে অ্যাস্টন ভিলাকে গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে চ্যাম্পিয়নস লীগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। পিএসজির হয়ে গোল দুটি করেন খাভিচা কাভারাৎসখেলিয়া দেজিরে দুয়ে। ভিলার হয়ে একমাত্র গোলটি শোধ দেন ১৭ বছর বয়সী ব্রায়ান মাদজো।

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ উয়েফা ইউরোপা লীগের চ্যাম্পিয়ন দলের মধ্যে হওয়া এই সুপার কাপে গত মৌসুমে টটেনহ্যাম হটস্পারকে পেনাল্টিতে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল পিএসজি। এবার ইংল্যান্ডের আরেক ক্লাব ভিলাকেও খালি হাতে ফেরালো লুইস এনরিকের দল। রিয়াল মাদ্রিদের পর আধুনিক যুগে টানা দুইবার সুপার কাপ ধরে রাখা দ্বিতীয় দল এখন পিএসজি।

ম্যাচে অবশ্য পিএসজিকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলে ভিলা। বল দখলের লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকলেও গোলের জন্য ১৪টি শট নেয় তারা, যার ৪টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে পিএসজির শটের ৫টি লক্ষ্যে থাকলেও তার দুটিতেই আসে গোল। প্রথমার্ধে ধীরে গুছিয়ে নেয়ার পর ২০তম মিনিটে এগিয়ে যায় পিএসজি। ডিবক্সে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে জোরাল শটে জাল কাঁপান কাভারাৎসখেলিয়া। এর কিছুক্ষণ পর সুযোগ এলেও নুনো মেন্দেসের চমৎকার ক্রসে পা ছোঁয়াতে পারেননি কেউ। বিরতির আগে ৪৫ মিনিটের মাথায় সমতা ফেরায় ভিলা। জন ম্যাকগিনের ক্রস থেকে নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন মাদজো। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দলই। তবে সফল হয় পিএসজি। ৬১ মিনিটের মাথায় দারুণ পাল্টা আক্রমণে উসমান দেম্বেলের পাস ধরে ডিবক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে দলকে এগিয়ে দেন দুয়ে। গোলই শিরোপার ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। এই জয়ে পিএসজির হয়ে মাত্র তিন বছরে ১৩টি শিরোপা জিতলেন কোচ লুইস এনরিকে।

ম্যাচ শেষে পিএসজি টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে লুইস এনরিকে বলেন, ‘ ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নেয়া বেশ কঠিন ছিল। খেলোয়াড়দের একটু বিশ্রাম এবং পরিবারের সাথে কিছু সময়ের প্রয়োজন ছিল; কিন্তু যখনই তারা প্যারিস সেন্ট জার্মানির জার্সি গায়ে জড়ায়, তখন সমর্থকদের সাথে এবং খেলোয়াড়দের নিজেদের মধ্যে সেই নিবিড় সংযোগ তৈরি হয়ে যায়। আজ আমরা আবারও যা দেখিয়েছি তা হলোÑকিছু ভুলত্রুটি ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও, আমরা ঠিক আগের মতো একই দল হয়ে আছি। আমরা সবসময় শুরুর একাদশের খেলোয়াড়দের নিয়েই বেশি কথা বলি, তবে ধরনের ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে মাঠে প্রস্তুত থাকাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলের সব খেলোয়াড়ই একই ভাবনায় লক্ষ্যে অটল আছে, যা অত্যন্ত জরুরি। কারণ বড় ট্রফি জিততে হলে সবাইকে একসাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়তে হয়।

Related Posts