ওয়ার্নারের মুখে বাংলাদেশের প্রশংসা

স্পোর্টস প্রতিবেদনঃ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পা রেখেই অপ্রতিরোধ্য গতিতে শুরুটা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ডারউইনে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিনেই লালসবুজের প্রতিনিধিরা কেবল মাঠে আধিপত্য বিস্তার করেনি, বরং মুগ্ধ করেছে ক্রিকেট বিশ্বের তারকাদেরও।

হাসানতাসকিনএবাদতদের পেস তোপে অস্ট্রেলিয়াকে অল্প রানে আটকে দেওয়ায় অজি কিংবদন্তি ডেভিড ওয়ার্নার এবং কেরি 'কিফের প্রশংসায় ভাসছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ম্যাচ চলাকালীন সময়ে কায়ো স্পোর্টসের ধারাভাষ্যে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ নিয়ে প্রশংসা করেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ওয়ার্নার। অজি কন্ডিশনে ভিনদেশি দলগুলোর শুরুর সংগ্রাম নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক ক্রিকেট খেলেছি এবং অনেক দলকেই এখানে আসতে দেখেছি। তবে আমার মনে হয়, এই প্রথম দেখলাম কোনো প্রতিপক্ষ দল এসে শুরু থেকেই তাদের বোলারদের দিয়ে একদম সঠিক জায়গায় আঘাত হানতে পেরেছে। তারা ক্লান্তহীন (রিলেন্টলেস) অস্ট্রেলিয়ায় এটা করা সহজ নয়, কিন্তু তারা সেটা করে দেখিয়েছে।'

ওয়ার্নারের এই মন্তব্যের সাথে সুর মিলিয়ে প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার কেরি 'কিফও বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটি অস্ট্রেলিয়ান জনগণের জন্য একটি পরিষ্কার বার্তা যে এই বাংলাদেশ দল কেবল খেলতে আসেনি, লড়াই করতে এসেছে। অনেকেই ধারণা করেছিলেন এই ম্যাচটি বেশিদিন টিকবে না, তবে এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে বলাই যায় যে প্রথম দিনটি বাংলাদেশই জিতেছে।' অজি কিংবদন্তিদের এমন স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে, ডারউইন টেস্টে লাল বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তনের গল্পটি কেবল পরিসংখ্যানের খাতায় নয়, বরং মাঠের ধারালো পারফরম্যান্স দিয়ে প্রতিপক্ষের মনেও গভীর রেখাপাত করেছে। পেসারদের দুর্দান্ত লাইনলেন্থ এবং ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের সুবাদে প্রথম দিনেই চালকের আসনে থেকে দারুণ এক বার্তা দিল বাংলাদেশ।

অজি কিংবদন্তিদের এমন স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে, ডারউইন টেস্টে লাল বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তনের গল্পটি কেবল পরিসংখ্যানের খাতায় নয়, বরং মাঠের ধারালো পারফরম্যান্স দিয়ে প্রতিপক্ষের মনেও গভীর রেখাপাত করেছে। পেসারদের দুর্দান্ত লাইনলেন্থ এবং ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের সুবাদে প্রথম দিনেই চালকের আসনে থেকে দারুণ এক বার্তা দিল বাংলাদেশ।

হাসানের আগুনঝরা বোলিংয়ে মুগ্ধ ট্রাভিস হেড

ডারউইন টেস্টে স্বপ্নের মতো একটি দিন পার করেছে বাংলাদেশ দল। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করেছে লালসবুজের প্রতিনিধিরা। অস্ট্রেলিয়ার ১০ উইকেটের সবগুলোই নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। এর মধ্যে একাই উইকেট শিকার করেছেন হাসান মাহমুদ।

আগুনঝরা বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে নাস্তানাবুদ করেন তিনি। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার ট্রাভিস হেড অভিজ্ঞ স্পিনার নাথান লায়ন। প্রথম দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের হাসান বলেন, “ম্যাচের মধ্যে ট্রাভিস হেড অনেকবার বলেছে, ‘ভালো বোলিং।নাথান লায়নও জিজ্ঞেস করছিল, ‘তোমার কয়টা পাঁচ উইকেট আছে?'অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে বল করাটা যে বড় চ্যালেঞ্জ, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন হাসান। তবে ম্যাচের আগে নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন তিনি। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের পর বলেন, 'আসলে বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের সঙ্গে বোলিং করাটা খুবই চ্যালেঞ্জিং। আমাদের সর্বশেষ অনুশীলন প্রস্তুতির দিক থেকে খুবই ভালো হয়েছে সবকিছু। অনেক দিন অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছি। বোলাররা খুবই ভালো অনুশীলন করেছে এবং ম্যাচেও সেটা দেখতে পেরেছেন।'

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ছয় উইকেটের মধ্যে কোনটি সবচেয়ে বেশি স্মরণীয়? এমন প্রশ্নে হাসানের পছন্দ অজি অভিজ্ঞ ব্যাটার স্টিভ স্মিথের উইকেট। একপ্রান্ত আগলে খেলে ইনিংস সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন তিনি। কীভাবে সেই উইকেট পেয়েছেন, সেটিও ব্যাখ্যা করেন হাসান, 'আমার কাছে সবগুলো উইকেটই বিশেষ। কারণ পাঁচটা উইকেট না হলে তো আর পাঁচ উইকেট হয় না। তবে অবশ্যই স্মিথের উইকেটটা বলব। সে বুঝতে পারছিল না আমি কী করতে যাচ্ছি। আমার সহজাত প্রবৃত্তি কাজ করছিল যে, সে কিছু একটা করতে যাবে। তাই আমি বাউন্সার করছিলাম। পরে সে বলটা মিস করেছে।'

Related Posts