আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট

বাঙালী প্রতিবেদনঃ বিবিসির জরিপে তিনি ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। তার সারা জীবনের অসীম ত্যাগের সাথে আর কোনো বাঙালির জীবনের দৃষ্টান্ত নেই। সবচেয়ে বড় কথা গ্রামের এই কিশোর কৈশোরত্তীর্ণ বয়সেই ভারতের তৎকালীন সেরা নেতাদের কয়েকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনিই একমাত্র বাঙালি যিনি এই জাতিকে স্বাধীন করার কথা শুধু চিন্তাই করেননি, তারুণ্য থেকে সেই লক্ষ্যেই কাজ করে গেছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতির গলায় মুক্তির বরমাল্য পরিয়েও দিয়েছিলেন। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ভাষায়১৯৭১এ আমরা লড়াই করেছি একত্রে। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ী হয়েই সেই ঐক্যটা ভাঙার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই ভেঙে একেবারে খান খান হয়ে গেছে।

সেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতা অর্জনের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় একদল বাংলা ভাষী তাঁকে তাঁর স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূ এবং শিশু পুত্রসহ সকলকে নৃশংসভাবে হত্যা করে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আজকের দিনে। এই সহজ বিষয়টি বুঝতে কারো অপারগ হওয়ার কথা নয় যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা কোনো মানুষকে হত্যা নয়, তাকে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের যাবতীয় অর্জন এবং চেতনাকে হত্যা করা। তাছাড়া বিচারহীন কোনো হত্যাই অনুমোদন দেয় না কোনো আইন, কোনো ধর্ম, কোনো সমাজ, কোনো রাষ্ট্র। আরো বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, হত্যাকারী এবং তাদের সমর্থকরা জানত, এই হত্যা জায়েজ করা যাবে না। তাই হত্যাকারীদের পুরস্কার হিসাবে দেশের বাইরে বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনে চাকরি দিয়ে পাঠানো হয় এবং সংবিধানে খুব দ্রুতএই হত্যার বিচার করা যাবে নাবলে সংবিধানকে কালিমা মাখানো হয় ইনডেমনিটি বিল পাশ করে। 

১৫ আগস্ট তাই একটি নিকষনির্মম দিন। একটি কলংকিত দিন। মানুষ নামের কতিপয় নৃশংস পশু তার সমর্থকরা সেইদিন থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কারো বিচার হয়েছে, বিচারে কেউ শাস্তি পেয়েছে। অনেকে আজীবন পলাতক জীবনযাপন করেছে। হয়ত এটাই প্রাকৃতিক শাস্তি।

আমরা পরম শ্রদ্ধাভরে বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করি।

Related Posts