লড়াইয়ে দিনশেষে প্রতিটি মানুষ একা: অমিতাভ
বলিউডের জীবন্ত কিংবদন্তি অমিতাভ বচ্চন অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের গভীর জীবনবোধ ও চিন্তাশীল লেখনীর মাধ্যমেও ভক্তদের অনুপ্রাণিত করে চলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্লগে নিয়মিত সক্রিয় এই মেগাস্টার সম্প্রতি জীবনের এক কঠিন ও অনিবার্য সত্য নিয়ে নিজের ভাবনা প্রকাশ করেছেন। বিগ বি মনে করেন, জীবনের পথচলায় পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, চূড়ান্ত লড়াইয়ের ময়দানে প্রতিটি মানুষ আসলে একা। নিজের ব্লগে অমিতাভ লিখেছেন, জীবনের প্রতিটি মোড় কিংবা সংগ্রামের মুহূর্তে একজন ব্যক্তিকে শেষ পর্যন্ত একাকী লড়াই করতে হয়। তবে এই একাকীত্বকে তিনি কোনো নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেননি; বরং একে আত্মমর্যাদা ও অভ্যন্তরীণ শক্তির উৎস হিসেবে তুলে ধরেছেন। নিজের বক্তব্যের গুরুত্ব বোঝাতে তিনি ব্রিটিশ—আমেরিকান লেখক অ্যালান ওয়াটসের একটি বিখ্যাত উক্তিও অনুসারীদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন।
অমিতাভের মতে, প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের মূল্যবান উপদেশ ও পরামর্শ অবশ্যই পথ চলতে সাহায্য করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হয়। তিনি লিখেছেন, ‘আপনি যা অনুভব করেন, যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন কিংবা যা কিছু সহ্য বা উপভোগ করেন—সবই আপনার নিজস্ব। আপনিই আপনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্তা।’ নিজের অস্তিত্ব ও অভিজ্ঞতার ওপর বিশ্বাস রাখাকেই তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় গুরুত্ব বলে মনে করেন।
৮০ বছর পার করা এই মেগাস্টার বিশ্বাস করেন, প্রতিটি মানুষের ভেতরেই একটি নিজস্ব শক্তি থাকে যা সচরাচর পরিমাপ করা যায় না। এই অভ্যন্তরীণ শক্তিকে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘এই শক্তিকে নিজের ভেতরে সযত্নে লালন করুন এবং যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হবে তখনই একে কাজে লাগান। এটিই আপনার জীবনের সেরা রক্ষাকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হবে।’
অমিতাভের এই জীবনমুখী দর্শন ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনুসারীদের অনেকের মতে, এই মেগাস্টারের কথাগুলো জীবনের কঠিন ও দুঃসময়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে এবং নতুন করে পথ চলতে সাধারণ মানুষের জন্য এক ধরনের অনুপ্রেরণামূলক টনিক হিসেবে কাজ করবে।
অমিতাভ লিখেছেন, ‘আমরা অনেক সময় খুব ছোট সমস্যাকেও বড় করে দেখি এবং তা নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা করি। অথচ দৃষ্টিভঙ্গিতে সামান্য বদল আনলেই বা সহজ কোনো উপায় খুঁজে নিলেই অনেক জটিলতা মিটে যেতে পারে।’ তিনি মনে করেন, দিনের পর দিন যে বিষয়গুলো আমাদের অস্বস্তিতে রাখে, তা ছোট্ট এক পরিবর্তনেই সহজ হয়ে যায়। তখন নিজের কাছেই প্রশ্ন জাগে এইটুকু বিষয়ের জন্য এত ভাবনার কি আদৌ প্রয়োজন ছিল?
শৈশবের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে অমিতাভ জানান, জীবনের কঠিন সময়ে মা তেজি বচ্চনই ছিলেন তার একমাত্র ভরসা। কখনো মমতার স্পর্শে, আবার কখনো জাদুকরী কোনো উপায়ে মা মুহূর্তেই দূর করে দিতেন সব অস্বস্তি। মায়ের সেই ছোট ছোট যত্নেই লুকিয়ে থাকত গভীর আশ্বাস, যা তাকে আজও পথ দেখায়।
আবেগপ্রবণ অমিতাভ স্বীকার করেছেন, মা আজ শারীরিকভাবে পাশে নেই, কিন্তু তার উপস্থিতি তিনি প্রতি মুহূর্তে অনুভব করেন। তিনি বলেন, ‘মা নেই ঠিকই, কিন্তু শুধু মনে মনে স্মরণ করলেই যেন সেই শান্তি ফিরে আসে। মনে হয়, দূরে থেকেও মা আজও আগলে রাখছেন আমাকে।’
অন্যদিকে, গত সপ্তাহে অমিতাভের এক রহস্যময় বার্তা নিয়ে হৈচৈ শুরু হয়েছে। তিনি লেখেন, কোনও সম্পর্কে কি পুরুষদের আদৌ বিশ্বাস করা যায়? এই নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। এক নারীর সঙ্গে সুখে সম্পর্কে আছেন এমন পুরুষ কি নেই? অমিতাভ বচ্চনের মন্তব্যে সেই প্রশ্নই আবার উঠে এল। কিন্তু কেন হঠাৎ এমন মন্তব্য করলেন বর্ষীয়ান তারকা? জয়া বচ্চনের সঙ্গে বিবাহিত হলেও বার বার অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে রেখার। ১৯৭৬ সালে রেখার সঙ্গে একটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ। ছবির নাম ছিল ‘দো আনজানে’। সেই ছবির সেট থেকেই তাঁদের সম্পর্কের গুঞ্জন শুরু। তখন জয়ার সঙ্গে বিয়ে হয়ে গিয়েছে অমিতাভের। তাই তারকার দিকে আঙুল তুলেছিলেন অনেকেই। তবে প্রকাশ্যে রেখার সঙ্গে সম্পর্কের কথা কখনওই তিনি বলেননি। তাই সম্প্রতি তাঁর একটি পোস্ট ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। শুক্রবার ভোররাতে হঠাৎ নিজের সমাজমাধ্যমে অমিতাভ লেখেন, “পৃথিবীর প্রতি কোণে বিশ্বস্ত পুরুষেরা রয়েছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই পৃথিবীর আকৃতি তো গোল।” অমিতাভের এই পোস্ট মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে। কোন প্রসঙ্গে তিনি এই পোস্ট করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে তাঁর অনুরাগীদের বক্তব্য, রসিকতা করেই অমিতাভ এই পোস্ট করছেন। বরাবরই তাঁর রসবোধ প্রশংসিত হয়েছে। সেই ধারা বজায় রেখেই এই মন্তব্য তাঁর। এক অনুরাগী তাঁর এই পোস্টের তলায় মন্তব্য করেছেন, “জয়া ম্যাডাম কিন্তু এই পোস্ট দেখে ঘরের কোণে বসে কাঁদবেন। আপনার বাড়ির আকৃতিও গোল নয় তো?”
