মঙ্গলবার প্রাইমারি নির্বাচন || কুইন্স ও ব্রংক্স থেকে ছয় বাংলাদেশী প্রার্থী

বাঙালী প্রতিবেদনঃ আজ এবং আগামীকাল আগাম ভোট শেষে ২৩ জুন মঙ্গলবার হবে বছরের নির্বাচনের প্রাইমারি। এই প্রাইমারিতে এবার নিউইয়র্ক স্টেট এসেম্বলি প্রাইমারিতে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী জন বাংলাদেশীআমেরিকান প্রার্থিতা দিয়েছেন। এদের মধ্যে চারজন কুইন্স থেকে আর একজন ব্রংক্স থেকে। একজন প্রার্থিতা দিয়েছেন কুইন্স কাউন্টি ডেমোক্রেটিক কমিটি মেম্বার পদে। তিনি হলেন খোরশেদ খন্দকার। অপর পাঁচজন এসেম্বলি সদস্য পদের প্রার্থী হলেন ডিস্ট্রিক্ট ৩০ থেকে শামসুল হক, ডিস্ট্রিক্ট ৩২ থেকে মোহাম্মদ মোল্লা, ডিস্ট্রিক্ট ৩৬ থেকে মেরি জোবায়দা, ডিস্ট্রিক্ট ৩৭ থেকে পিয়া রহমান এবং ডিস্ট্রিক্ট ৮৭ থেকে জাকির চৌধুরী।

নির্বাচন হবে ২৩ জুন মঙ্গলবার। ভোট গ্রহণ শুরু হবে কাল ৬টা থেকে একটানা রাত ৯টা পর্যন্ত। নিকটস্থ ভোটকেন্দ্রের ঠিকানা জানতে চাইলে ভিজিট করতে পারেন ভরহফসুঢ়ড়ষষংরঃব.াড়ঃব.হুপ ওয়েবসাইট।

বাংলাদেশী আমেরিকান পাঁচ প্রার্থীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হলো। এর বাইরে যদি কেউ নির্বাচনে দাঁড়িয়ে থাকেন সেই খবর পাওয়া যায়নি।

শামসুল হক

নিউইয়র্কের কুইন্সে বাংলাদেশী অধ্যুষিত ডিস্ট্রিক্ট ৩০ থেকে এসেম্বলিসদস্য পদে লড়ছেন সাবেক এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা শামসুল হক। শামসুল হক ইতিমধ্যেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এনডোর্সমেন্ট পেয়েছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এনডোর্সমেন্টটি এসেছে প্রেসিডেন্ট পদে সাবেক মনোনয়নপ্রার্থী ডেমোক্রেটিক সোশালিস্ট পার্টির জনক সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের কাছ থেকে। এছাড়াও এনডোর্সমেন্ট পেয়েছেন নিউইয়র্ক সিটি ট্রাফিক অফিসার্স ইউনিয়ন সিডব্লু্যএ লোকাল ১১৮২, হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এমপ্লইস ইউনিয়ন ইউনাইটহেয়ার লোকাল ১০০, মুসলিম ডেমোক্রেটিক ক্লাব অব নিউইয়র্ক, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব অপারেটিং ইঞ্জিনিয়ার্স আইওইউই লোকাল পার্টি। এছাড়াও সাবেক কংগ্রেসম্যান (ডিস্ট্রিক্ট ১৬) জামাল বোম্যান এবং নিউইয়র্ক এসেম্বলিসদস্য ডিয়ানা মোরেনো তাকে এনডোর্স করেছেন।

শামসুল হক নিরলস প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এসেম্বলি ডিস্ট্রি্ক্ট যেসব এলাকা নিয়ে গঠিত সেগুলো হচ্ছেজ্যাকসন হাইটস, উডসাইড, ইস্ট এলমহাস্টর্, করোনা, এলমহাস্টর্ এবং ম্যাসপেথ। তার মূল এজেন্ডাসমূহ হলোঃ ইমিগ্রান্ট পরিবারের জন্য হেলথকেয়ার সুবিধা বাড়ানো, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নততর করা, এলাকার নিরাপত্তা, জীবনমান উন্নত করা ইত্যাদি।

শামসুল হক সাপ্তাহিক বাঙালীকে জানান বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তার ক্যাম্পেইন থেকে এই ডিস্ট্রিক্টের প্রায় ২৫,০০০ বাড়িতে ডোর নক করা হয়েছে। আশা আছে প্রাইমারির আগে আরো ,০০০ ডোর নক করা হবে। এছাড়াও ক্যাম্পেইন থেকে ২০ হাজারেরও বেশি ফোন ব্যাংকিং করা হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনের বিষয়ে তিনি প্রবলভাবে আশাবাদী।

মোহাম্মদ মোল্লা

বাংলাদেশ কম্যুনিটির অত্যন্ত ব্যস্ত কম্যুনিটি একটিভিস্ট এবং পরোপকারী ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ মোল্লা। তিনি তার নিজ কম্যুনিটিতে জে. মোল্লা সানি নামে অধিকতর পরিচিত। তিনি আগামী মঙ্গলবারের প্রাইমারিতে নিউইয়র্ক স্টেট এসেম্বলি ডিস্ট্রি্ক্ট ৩২ থেকে প্রার্থিতা দিয়েছেন। বাংলাদেশী ইমিগ্রান্ট অধ্যুষিত জ্যামাইকা, সাউথ ওজোন পার্ক, রিচমন্ড হিল, সেন্ট অলব্যান্স, স্প্রিংফিল্ড গার্ডেন্স, লোকাস্ট ম্যানর, রোজডেল ভিলেজ নিয়ে গঠিত এই বিশাল গুরুত্বপূর্ণ ডিস্ট্রিক্টের অনেক সমস্যা চিহ্নিত করেছেন মোহাম্মদ মোল্লা। সেগুলো সমাধানের প্রতিশ্রম্নতি দিয়ে তিনি এবং ভলান্টিয়াররা দিনরাত্রি ডোর নক করে চলেছেন, ফোন ব্যাংকিং করছেন, প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই এলাকার জনাকীর্ণ রাস্তা দিয়ে গেলে বিভিন্ন জায়গায় তার নির্বাচনী পোস্টার চোখে পড়ছে।

মোহাম্মদ মোল্লা একদা জ্যামাইকার বাংলাদেশী তরুণদের প্রাণবন্ত সংগঠন জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সাবেক সেক্রেটারি ছাড়াও কম্যুনিটি সেবার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সোসাইটিসহ জেবিবিএর সাথে সংযুক্ত ছিলেন। নিজে সফল ব্যবসায়ী। রিলায়েবল হোমকেয়ারের ডিরেক্টর।

মোহাম্মদ মোল্লার মূল এজেন্ডাগুলোর অন্যতম ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিসহ স্কুলসমূহকে শক্তিশালী করা, এসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৩২এ সিনিয়র কেয়ার সার্ভিস বৃদ্ধি করা, এবং আরো এফোর্ডেবল হাউজিংএর সুযোগ বিস্তৃত করা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তা দেয়াসহ এলাকার জননিরাপত্তা আরো জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখা।

তাঁর নির্বাচনী শ্লোগান হলোঞড়মবঃযবৎ, বি পধহ নঁরষফ নবঃঃবৎ উরংঃৎরপঃ ৩২ভধরৎ, ংঃৎড়হম, ধহফ ঁহরঃবফ 

মেরি জোবায়দা

নিউইয়র্ক এসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৩৬ থেকে প্রাইমারিতে প্রার্থিতা দিয়েছেন বাংলাদেশীআমেরিকান মেরি জোবায়দা। এই ডিস্ট্রিক্টটি কুইন্সের নর্দান লং আইল্যান্ড সিটি, এস্টোরিয়া হাইটস, ডিটমার্স এলাকা নিয়ে গঠিত।

মেরি জোবায়দা বাংলাদেশ কম্যুনিটি এবং মূলধারায় অত্যন্ত সক্রিয় ব্যক্তি। লং আইল্যান্ড সিটিতে দুই দশকেরও বেশি সময় বসবাস করার কারণে এই ডিস্ট্রিক্টটি তার নখদর্পনে। তিনি চেনেন এই ডিস্ট্রিক্টের মানুষকে, তাদের ব্যবসাকে, তাদের সুবিধা, অসুবিধা, তাদের আর্থিক অবস্থা এবং দাবি। মেরি জোবায়দা এই এলাকায় তার সন্তানদের বড় করে তুলছেন।

তাঁর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তিনি মনে করেন সরকার এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তার ডিস্ট্রিক্ট এবং এর বাইরে কম্যুনিটির অর্থনৈতিক অসাম্য দূর করতে সর্বতোভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে।

মেরি জোবায়দার ইস্যুসমূহের মধ্যে অন্যতম হলোঃ এফোর্ডেভল হাউজিং, নাইচার জন্য সম্পূর্ণ আর্থিক সহায়তা, চাইল্ডকেয়ার সহ ইউনিভার্সাল হেলথকেয়ার, নবায়নযোগ্য এনার্জি, শ্রমজীবীদের অধিকার সংরক্ষণ, স্থানীয় ব্যবসাকে সহায়তা প্রদান, কিউনি সুনির কলেজে শিক্ষা সম্পূর্ণ ফ্রি করা, ইমিগ্রান্টদের নিরাপত্তা প্রদান, ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা দেয়াসহ সমস্যায় পতিত বাড়ির মালিকদের সহায়তা।

মেরি জোবায়দার ক্যাম্পেইন এনডোর্সমেন্ট পেয়েছে স্টেট সিনেটর জন সি. ল্যু, এসাল, সোশাল ডেমোক্রেটস অব ইউএসএ, বাংলাদেশীআমেরিকান এডভোকেসি গ্রুপ ইত্যাদি সংগঠন থেকে।

জাকির চৌধুরী

ব্রংক্সের বাংলাদেশী অধ্যুষিত পার্কচেস্টার, ক্যাসল হিল, ভ্যান নেস্ট, ওয়েস্ট ফার্মস এলাকা নিয়ে গঠিত নিউইয়র্ক এসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭ থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে প্রাইমারিতে প্রার্থিতা দিয়েছেন এই এলাকার বিশিষ্ট সিপিএ জাকির চৌধুরী। তিনি শুধু ফিনানশিয়াল প্লানারই নন, তিনি কম্যুনিটির একজন অত্যন্ত কর্মতৎপর নিবেদিতপ্রাণ একটিভিস্ট। এই এলাকায় দীর্ঘদিন বসবাসের কারণে তিনি সবসময় স্বল্প আয়ের পরিবার, সিনিয়রসহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সব ধরনের প্রয়োজনে হাত বাড়িয়ে দেন। তিনি জানেন, তার ডিস্ট্রিক্টের মানুষদের সমস্যার কথা, তাদের জীবন সংগ্রামের কথা। সেই জন্যই তার উচ্চারিত শ্লোগানটি অনেকেরই মন ছুঁয়ে গেছেঞড়মবঃযবৎ বি ঃযব ঢ়বড়ঢ়ষব ধপযরবাব সড়ৎব ঃযধহ ধহু ংরহমষব ঢ়বৎংড়হ পড়ঁষফ বাবৎ ফড় ধষড়হব.’

জাকির চৌধুরীর নির্বাচনী এজেন্ডাসমূহ হলোঃ জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হাউজিং এবং হেলথকেয়ার আরো এফোর্ডেবল করা, তরুণ নারীদের জন্য আরো অপরচুইনিটি সৃষ্টি করা, শিক্ষার মান উন্নয়নে নতুন কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করা, সিনিয়র সেন্টারগুলোকে সহায়তা করা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোসহ নেবারহুডে মানুষের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করতে চান, ভায়োলেন্স বন্ধ করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চান, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কম্যুনিটি গ্রুপের পার্টনারশিপের ব্রিজ নির্মাণ করতে চান।

সুদর্শন এই তরুণ পার্কচেস্টারের প্রিয় মুখ, প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি জানান, তার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি অনুধাবন করতে পারেন তার এলাকার মানুষের প্রতিদিনের সমস্যার কথা। তাই নির্বাচিত হয়ে সেসব সমাধানের লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়তে চান।

পিয়া রহমান

কুইন্সের এসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৩৭ থেকে প্রার্থিতা দিয়েছেন বাংলাদেশীআমেরিকান পিয়া রহমান। এই ডিস্ট্রিক্টের এলাকাসমূহ হলো সানিসাইড, রিজউড, উডসাইড, লং আইল্যান্ড সিটি, ম্যাসপেথ, কুইন্স ব্রিজ, রেভেন্সউড, ডাচ কিল, ব্লিসভিল এস্টোরিয়ার আংশিক। নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলসমূহ কিউনি সুনিতে লেখাপড়া করা পিয়া রহমান একজন হেলথ প্রফেশনাল। কোভিডকালে নিউট্রিশনিস্ট হিসাবে কাজ করার সময় ভেতর থেকে এই স্টেটের স্বাস্থ্যসেবা খাতের সমস্যাসমূহ প্রত্যক্ষ করেছেন বলে ওয়েবসাইটে লিখেছেন। তিনি কংগ্রেসসদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজের টিমেও কাজ করেছেন। তিনি কুইন্স কম্যুনিটি বোর্ড এর সদস্য।

পিয়া রহমান তার ওয়েবসাইটে জানিয়েছেন, তিনি প্রার্থিতা দিয়েছেন জনগণের সেবার জন্য, কর্মজীবী মানুষদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য, এফোর্ডেবল হাউজিং পাওয়ায় তাদের সুযোগ সৃষ্টির জন্য, মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, শিক্ষার উন্নয়নসহ জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য।

তিনি এমগেজ এ্যাকশন, ইলিনর্স লিগেসি, লোকাল # নিউইয়র্ক, এসাল, ভোটার্স ফর এনিমেল রাইটস, লোকাল #, ওয়েস্টচেস্টারপাটনাম বিল্ডিং এন্ড কন্সট্রাকশন ট্রেডসএর এনডোর্সমেন্ট পেয়েছেন।

খোরশেদ খন্দকার

নিজ ডিস্ট্রিক্ট জ্যামাইকার এসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ২৯ থেকে ২৩ জুনের প্রাইমারিতে প্রার্থিতা দিয়েছেন নিরব কিন্তু অত্যন্ত ইন্টিগ্রিটিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব খোরশেদ খন্দকার। তিনি প্রার্থিতা দিয়েছেন উক্ত ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্রেটিক কাউন্টি কমিটি মেম্বার পদে। এই ডিস্ট্রিক্টের বর্তমান এসেম্বলিসদস্য এলিসিয়া হাইন্ডম্যান। আর এই ডিস্ট্রিক্টের অন্তভুর্ক্ত এলাকাসমূহ হলো জ্যামাইকা, হলিস, সেন্ট অলব্যান্স, স্প্রিংফিল্ড গার্ডেন, লরেলটন, রোজডেল লোকাস্ট ম্যানর।

খোরশেদ খন্দকার শ্রমিক সংগঠন এসালএর আজীবন সদস্য, এবং ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির কন্ট্রিবিউটিং সদস্য। এই পদে তিনি আছেন গত ২৬ বছর।

Related Posts