বর্ণাঢ্য আয়োজনে নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের অভিষেক
নিউইয়র্কঃ বর্ণাঢ্য আয়োজনে অভিষিক্ত হয়েছেন উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলার সমন্বয়ে গঠিত নর্থবেঙ্গল ফাউন্ডেশন ইউএসএ’র দ্বি—বার্ষিক (২০২৬—২০২৭) কার্যকরী পরিষদের নতুন কর্মকর্তাগণ। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলাগুলোর প্রবাসী বাংলাদেশীরা সপরিবারে অংশ নেন। ফলে অনুষ্ঠানটি উত্তরবঙ্গবাসীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। শিশু—কিশোর—কিশোরী থেকে বয়োবৃদ্ধ সর্বস্তরের প্রবাসীদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে উঠে অভিষেক অনুষ্ঠান। গত রবিবার ৫ জুলাই সন্ধ্যায় উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে এই অভিষেক হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সকল উত্তরবঙ্গবাসীকে ফাউন্ডেশনের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগঠনটিকে আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি সম্মিলিতভাবে প্রবাসীসহ দেশের কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা বলেন, যমুনা সেতু হওয়ার পর থেকে উত্তরবঙ্গ আর মঙ্গাপীড়িত অঞ্চল নয়। তবে আমাদের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। এজন্য বক্তারা বগুড়ার সন্তান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের কাছে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর সমস্যা সমাধানের দাবী জানান। খবর ইউএনএ’র।
তিন পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সভাপতিত্ব করেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক ও প্রধান উপদেষ্টা ডা. মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের পর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। এসময় ফাউন্ডেশনের অন্যতম ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান নাসির আলী খান পল, আমন্ত্রিত অতিথি সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, উপদেষ্টা ডা. মাসুদুল হাসান, জহিরুল ইসলাম টুকু, আল যুবায়ের বাচ্চু ও ডা. আবুল কালাম, নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আহসানউল্লাহ ফিলিপ এবং উপদেষ্টা ও নির্বাচন কমিশনার দবিরুল ইসলাম, সিনিয়র সহ সভাপতি এবিএম মিজানুল হাসান ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহর খান সহ অন্যান্য কর্মকর্তা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। এই পর্বে বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধি সহ কয়েকজন আমন্ত্রিত অতিথি শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। পরিচালনা করেন আহ্বায়ক কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ রাকিবুজ্জামান তপু ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান রোকন।
পরবতীর্তে নতুন কমিটির কর্মকর্তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান নির্বাচন কমিশনার দবিরুল ইসলাম। এরপর তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান অপর নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আহসানউল্লাহ ফিলিপ।
নর্থবেঙ্গল ফাউন্ডেশন ইউএসএ’র অভিষিক্ত কর্মকর্তারা হলেন: সভাপতি ডা. চৌধুরী সারওয়ারুল হাসান (পুনঃনির্বাচিত), সিনিয়র সহ সভাপতি এবিএম মিজানুল হাসান, সহ—সভাপতি মোহাম্মদ আবু তাহের, মোতাহার হোসেন, তাসকিনুল হক, মোহাম্মদ শমসের আলী ও এম এ রশিদ, সাধারণ সম্পাদক মোজাফফর হোসেন (পুনঃনির্বাচিত), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শফিউল আলম, সহ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান (মিলন), মোহাম্মাদ মোহর উদ্দিন খান ও মোহাম্মদ রাজাবীন হায়াত, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস মিয়া (কানন), সহ কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান (রোকন), সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মাহবুব হোসেন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল জলিল মিয়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ডা. নার্গিস রহমান, সহ—সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ মসিতুল্লাহ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রোকশান আরা, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম, ক্রীড়া ও বিনোদন সম্পাদক এ এইচ এম কামাল (মিল্টন), সহ—ক্রীড়া ও বিনোদন সম্পাদক আলিফ রেজওয়ানা স্মৃতি, দপ্তর সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ ফরিদ, অভিবাসন ও মানবাধিকার সম্পাদক মোহাম্মদ মিয়া দুলু, শিক্ষা ও কমিউনিটি উন্নয়ন সম্পাদক সাহানা বেগম রিনা।
কার্যকরী সদস্য— হাসানুজ্জামান হাসান (প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি), মোহাম্মদ রাকিবুজ্জামান খান (তনু), মোহাম্মদ আবদুস সালাম, শামীম আহমেদ, মোস্তফা কামাল মিল্টন, মোহাম্মদ রাজু আহমেদ (যাদু), মোহাম্মদ আব্দুর রকিব, মোহাম্মদ আরিফ হোসেন, মোহাম্মদ বিপুল সরকার, মোহাম্মদ আমির হোসেন।
জেলা প্রতিনিধি: মোহাম্মদ সামিউল হক (রাজশাহী), মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন (দিনাজপুর), মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন স্বপন (পাবনা), মোহাম্মদ শাহীন আলম (নাটোর), আবদুর রাজ্জাক আলী (রংপুর), ইউসুফ আলী (বগুড়া), মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম (সিরাজগঞ্জ), মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম (নওগাঁ), রাজু আহম্মদ (পঞ্চগড়), মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন (নীলফামারী), সাদিউর রহমান সাদী (কুড়িগ্রাম), আবদুর সালাম শাজাহান (লালমনিরহাট), মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান জেমস (গাইবান্ধা), মোহাম্মদ জাকির হোসেন (জয়পুরহাট), মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) এবং মোহাম্মদ ইকরামুল হক (ঠাকুরগাঁও)।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সভাপতিত্ব করেন পুনরায় নির্বাচিত সভাপতি ডা. চৌধুরী সারোয়ারুল হাসান।
অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উত্তরবঙ্গের সঙ্গীত সহ দেশের গান পরিবেশন করেন ডা. নার্গিস রহমান, তাশকিনুল হক, মোহর খান ও মোহাম্মদ মসিতুল্লাহ। এছাড়াও সঙ্গীত পরিবেশন করেন নাজু আকন্দ, সুজান আরিফ প্রমুখ। এই পর্বের এক পর্যায়ে শিল্পীদের সাথে শিশু—কিশোরারা সহ ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা নেচে—গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।
