গিন্সবার্গের শহরেই আমি বসবাস করি || হাসানআল আব্দুল্লাহ নিউইয়র্ক

১.

কয়েক বছর আগে নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরিতে কবিতাপাঠের একটি অনুষ্ঠান শুরুর পূর্ব মুহূর্তে ‘সাপ্তাহিক বাঙালী’ সম্পাদক কৌশিক আহমেদ তাঁর ফোনে একটি ছবি দেখিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “বলুন তো ছবিটি কার?” পিছন থেকে তোলা ছবিতে ভদ্রলোকের মাথায় টাক ও পিঠের অংশ একদম আমাদের পরিচিত এক কবির মতো। আমি কোনো ভূমিকা না করে বলে উঠলাম, “গিন্সবার্গের!” তিনি মুচকি হেসে বললেন, “এই মাত্র আপনি যখন টেবিল সাজাচ্ছিলেন, আমি ছবিটি তুলেছি।” আমি তো অবাক! “বলেন কি?” এতোদিন জানতাম আমার চুল ও চেহারার ধরন কাজী নজরুল ইসলামের মতো। অনেকে বইমেলায় আমাকে নজরুলের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় মনে করে আমার সাথে ছবিও তুলেছেন। একবার এক ভদ্রলোক ছবি তোলার পর জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আপনি কি এ—পারের না ও—পারের সূত্রে আত্মীয়?” তিনি বাংলাদেশ ও ভারতকে বুঝিয়েছিলেন। আমি তাকে কোনো ধাঁধায় না রেখে বলেছিলাম, “দুই পারেরই!” ভদ্র্রলোক সেদিন মহাতৃপ্তি নিয়ে করমর্দন করে বলেছিলেন, “কবির কাছের মানুষ দেখলে মনটা ভরে ওঠে।” আদতে আমি তো নজরুলের কাছের মানুষই!

একবার পোল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের শহর বিডগোসে কবিতা পড়ার আমন্ত্রণ পাই। অনুষ্ঠান শেষে বুক সাইনিং ও অটোগ্রাফ পর্বে যখন স্থানীয় কবিদের সাথে কথা বলছিলাম, মূল আয়োজক বিডগোস শাখা রাইটার্স ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ডারিউস টোমাস লেবিয়োডা তাড়া দিলেন, “অফিসে তোমার ইন্টারভিউ নেবার জন্যে দু’জন বসে আছেন।” আমি তাঁকে অনুসরণ করে ছুটে গিয়ে দেখি দুই কবি ক্যামেরা নিয়ে অপেক্ষমান। একজন ক্যামেরার পিছনে, অন্যজন প্রশ্নকর্তা। অনুষ্ঠান শুরুতেই সৌহাদ্যর্ বিনিময় শেষে প্রথম প্রশ্ন শুনে সেদিনও বেশ অবাক হয়েছিলাম, “আপনি কি জানেন, আপনাকে দেখতে অনেকটা গিন্সবার্গের মতো? তাছাড়া আজ আপনার যেসব কবিতা শুনলাম তার ভেতরেও ওই কবির ছাপ লক্ষ্য করা গেল।” আমি একেবারেই গিন্সবার্গের মতো দেখতে নই যদিও সেদিন কৌশিক আহমেদের তোলা আমার মাথার পিছনের বিশাল টাকের সাথে তাঁর টাকের একটি সুন্দর মিল খুঁজে পেয়েছিলাম। তবে, প্রশ্নের উত্তরে ওই পোলিশ কবিকে আশ্বস্ত করেছিলাম যে কবিদের সাথে কবিদের একটু আধটু মিল থাকা অস্বাভাবিক নয়। তাছাড়া আমি যে শহরে বাস করি, গিন্সবার্গও সেই শহরে বাস করতেন। আর, আমি যে গিন্সবার্গের কাব্যসমগ্র পড়ে একটি দীর্ঘ কবিতা লিখেছিলাম তাও সেদিন উল্লেখ করি। পরে জানতে পারি গিন্সবার্গও কবিতা পড়তে বিডগোস শহরে গিয়েছিলেন এবং সেই কবির সাথে তাঁর সাক্ষাৎও হয়েছিলো যা তিনি আজও মনের গভীরে চমৎকারভাবে বাঁধাই করে রেখেছেন। তবে, আমার একটি বড়ো দুঃখই রয়ে গেল যে এক শহরে বাস করেও মার্কিন এই কবির সাথে আমার কখনো দেখা হয়নি। আমার বন্ধু টম ডিজিডিও গল্পের ছলে হাসতে হাসতে বলেছিলেন, “গিন্সবার্গ ইটালিতে কোনো এক অনুষ্ঠানে স্যুটটাই পরে কবিতা পড়তে উপস্থিত হলে শত শত দর্শক হইচই বাঁধিয়ে দিয়েছিলেন, কারণ তারা গিন্সবার্গকে ওইভাবে দেখে কখনোই অভ্যস্ত ছিলেন না।” আমি বলি, “আমেরিকার উলঙ্গ কবি যদি স্যুটটাই পরে কবিতা পড়তে যান তাহলে অমনটা হতেই পারে।” আমি টমকে শিকাগো শহরে মঞ্চে উলঙ্গ হয়ে গিন্সবার্গের দাঁড়িয়ে যাবার কথা স্মরণ করিয়ে দেই। টম বলেন, “হয়তো ইয়োরোপের অন্য কোনো শহরে এমনটি হতো না, কিন্তু মিলানের দর্শকরা অন্যরকম, যা মনে হবে সাথে সাথে বলে দেবে।” টমের থেকে এই কবির কতো কতো গল্প শুনেছি! তবে সবচে’ মজার গল্প শুনেছিলাম মীনাক্ষী দত্তের কাছ থেকে। জ্যোতিদা তখন স্কলারশিপ নিয়ে আইওয়া এসেছেন। সেই খবর পেয়ে গিন্সবার্গও একদিন তাদের বাসায় হাজির। সেদিন শহরের কোনায় কোনায় নাকি রটে গিয়েছিলো যে গিন্সবার্গ এসেছেন। রাস্তায় লোক জড়ো হয়েছিলো কবিকে একনজর দেখতে। তাঁকে ঘিরে সেখানে মেলা বসে গিয়েছিলো। তার মানে প্রকৃত সেলিব্রে্রটিই ছিলেন তিনি।

আরেকবার কলকাতায় তিনি ও তাঁর সঙ্গী পিটার অরলোভস্কি নাকি পাঞ্জাবির নিচে খুব ছোটো প্যান্ট পরে হাজির হয়েছিলেন। সেটাও মেনে নেয়া যায়, কিন্তু নরেশ গুহর বাসায় একই পোশাকের নিচে কিছু না পরেই দুইজন হাজির হন। বেচারা নরেশ গুহ, গিন্সবার্গের সাথে সম্পর্কও তৈরি করতে চেয়েছিলেন আবার এমন মানুষের সাথে সম্পর্ক রাখার বিপদও সেদিন হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলেন! গিন্সবার্গের ওই এক সমস্যা, তিনি অদ্ভুত কাণ্ড করে মানুষকে ভড়কে দিতে ভালোবাসতেন। কিন্তু মীনাক্ষী দত্ত ও টম ডিজিডিওর থেকে গল্প শুনে এবং বুদ্ধদেব বসুর প্রবন্ধে এই কবি সম্পর্কে জেনে তাঁকে আমার একজন খাঁটি মানুষ বলেই ধারণা হয়েছে। নতুবা ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় তিনি কি লিখতে পারতেন “আমেরিকা, গো ফাক ইয়োরসেলফ উইথ ইয়োর এটম বোম!” আর একাত্তরে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে তো তিনি মহান বন্ধুর দায়িত্ব পালন করেছেন। শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করে “সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড” কবিতা লিখেই দায়িত্ব শেষ করেননি, সেই কবিতায় সুর দিয়ে গ্রীনিচ ভিলেজে হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান হিসেবে পরিবেশন করে মার্কিন জনগণকে পাকিস্তানি অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার করে তুলেছেন। কাকতালীয়ভাবে অতি সম্প্রতি ভিলেজে গঞ্জো কবিতা উৎসবে কলম্বিয়ান এক কবির সাথে পরিচয় হলে তিনি গিন্সবার্গের সেই গান গাওয়ার দৃশ্য বর্ণনা করলেন। আমি শতাব্দীর শুরুর দিকে সেই গানের একটি অডিও ভার্সন পেয়ে যাই, এবং নেট দুনিয়া থেকে খুঁজে খুঁজে একাত্তরের ফুটেজ জুড়ে দিয়ে একটি ভিডিও বানিয়ে আমার ছাত্রদের দেখাই। সেটি এখনো আমার ইউটিউব চ্যানেলে রয়েছে, যদিও হানাদার বাহিনীর অত্যাচারের দৃশ্যাবলির জন্যে কর্তৃপক্ষ ভিউয়ার্স রেস্টি্রকশন দিয়ে রেখেছে।

২.

“লম্বা নন, বরং বেঁটের দিকে, ছিপছিপে শরীর, গায়ের রং হলদে—ঘেঁষা ম্লান, চোখে চশমা, নেহাৎ ‘ভদ্রলোক’দের মতোই দাড়িগোঁফ কামানো, পরিষ্কার সিঁথি—কাটা চুল কিন্তু মাথা নোয়ালে ছোট্ট টাক দেখা যায়; অর্থাৎ চেহারায় শাস্ত্রসম্মত লক্ষণ একটিও নেই, যদিও পালিশহীন জুতো, ইস্ত্রিহীন প্যান্ট আর গায়ের গলা—খোলা কোর্তায় গোষ্ঠীচেতনার পরিচয় আছে।” এইভাবেই বুদ্ধদেব বসু তাঁর “বীটবংশ ও গ্রীনিচ গ্রাম” প্রবন্ধে গিন্সবার্গের চেহারার বর্ণনা দিয়েছিলেন। তিনি গিন্সবার্গকে বীট আন্দোলনের “স্রষ্টা” হিসেবেও উল্লেখ করেছেন, যদিও উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামসকেই ধরা হয় বীটদের গুরু হিসেবে। উইলিয়ামস সম্পর্কে পোয়েট্রি ফাউন্ডেশন লিখেছে, “হি বিকেম অ্যান ইন্সপিরেশন টু দ্য বীট জেনারেশন ইন দ্য ফিফটিস অ্যান্ড সিক্সটিস।” সে যাই হোক, গিন্সবার্গ ও জ্যাক কেরুয়াকই বীট আন্দোলনের পুরোধা হিসেবে পরিচিত। তবে গিন্সবার্গের মতো আকাশছোঁয়া খ্যাতি এই জেনারেশনের আর কেউ পাননি। মীনাক্ষী দত্ত লিখেছেন, “অ্যালেন চিত্রতারকা বা ফুটবল তারকাদের চাইতেও জনপ্রিয় তখন। প্রতি পদক্ষেপে [ম্যানহাটনের রাস্তায় হাঁটার সময়] ছেলেমেয়েরা তাকে থামাতো। অটোগ্রাফ চাইতো। ওকে গায়ে হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখতো। ওর প্রভাব ছিলো অনেকটা সাধু—সন্তের মতো (অ্যালবাম থেকে কয়েকজন/মীনাক্ষী দত্ত)।”

গিন্সবার্গ থাকতেন ডাউনটাউন ম্যানহাটনের এভিনিউ সি ও ডি—এর মাঝে একটি অ্যাপার্টমেন্টের দোতলায়। যুক্তরাষ্টে্র আসার পর আমিও কিছুদিন ওই এলাকায় অ্যালেন স্টি্রটে থাকি। ফলে এলাকাটিই শুধু আমার পরিচিত নয়, ওখানে নীনা হেলথ সেন্টার নামে একটি হাসপাতাল আছে যেখানে মাত্র দশ ডলার দিয়ে ডাক্তার দেখানোর সুযোগও পাই। পরে, প্রথমে ব্রুকলিন ও দ্বিতীয় ধাপে কুইন্সে বসবাস করা শুরু করলেও আমি ওই হাসপাতালেই যেতাম অল্প খরচে চিকিৎসা ও মাত্র পাঁচ ডলারের বিনিময়ে ওষুধ পাওয়ার জন্যে। অথচ তখন কিন্তু জানতাম না যে গিন্সবার্গ ওখানেই পাশাপাশি একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। এবছর সুইডেনের কবি ও সেখানকার বীট পোয়েট লরিয়েট ব্যাংক্ট বোজারক্লুন্ট গ্রীষ্মে নিউইয়র্কে বেড়াতে এসে উঠলেন আমার বাসায়। তিনি ছিলেন গঞ্জো কবিতা ফেস্টিভালের আমন্ত্রিত অতিথি। ফলে তাকে নিয়ে ম্যানহাটনে গিয়ে দেখি এই উৎসবটিও হচ্ছে একই জায়গায়, ঠিক নীনা হাসপাতালের উল্টোপাশের একটি বাড়িতে। হাসপাতালটি এখনো আছে, এবং আরো ছিমছাম হয়েছে দেখে পুলকিত হই। আমেরিকার বিভিন্ন স্টেট থেকে কবিরা এসেছিলেন চার দিনের এই আনন্দযজ্ঞে এবং আয়োজকসহ সকলেই বীট জেনারেশনের কবি। অবশ্য তারা এখন নিজেদেরকে বলেন ‘নিউ জেনারেশন বীট’ এবং তাদের গুরু হলেন অ্যালেন গিন্সবার্গ। আমি যখন ভাবতে বসেছিলাম যে বীটগোষ্ঠীর অস্তিত্ব এখন আর আমেরিকাতে নেই, ঠিক তখনই দু’বছর আগে কানেকটিকাটে এমনই একটি কবিতা উৎসবে যোগ দিয়ে বুঝতে পারি যে মূল ধারায় সত্তর বা আশির দশকের মতো না থাকলেও তাদের নিজেদের একটি কাফেলা আয়োজন, অনুষ্ঠান, আপ্যায়ন ও বই—পত্রপত্রিকা প্রকাশের ভেতর দিয়ে নিজেদেরকে যেমন সচল রেখেছেন তেমনি গিন্সবার্গের লেগেসিও শক্তভাবে ধরে আছেন। মজার ব্যাপার হলো, গঞ্জো ফেস্ট এই নামটিও এসেছে গিন্সবার্গের গাঁজা সেবন থেকে। একবার তিনি কবিতা পড়ার পর একজন নাকি সোৎসাহে চিল্লিয়ে উঠেছিলেন, “ইটস এ গ্রেট গঞ্জো পোয়েম।” বুদ্ধদেব বসু মীনাক্ষী দত্তকে বলেছিলেন, জানিস অ্যালেন কিন্তু গাঁজা খায়! আর ম্যানহাটনে প্রথম আলাপেই অ্যালেন বুদ্ধদেবকে জিজ্ঞেস করে বসলেন, “আপনি গাঁজা খেয়েছেন!” প্রশ্ন শুনে বুদ্ধদেব বসু যতোটা অবাক হয়েছিলেন উত্তর শুনে অ্যালেন তারচে বেশি অবাক হয়ে বললেন, “সে কী? কখনো খাননি?” নিয়মিত মদ্যপানে অভ্যস্ত বুদ্ধদেব যখন বললেন যে গাঁজা ভাঙ চরস সিদ্ধি—ওসব ভালো নয়, তখন অ্যালেন তার তাত্ত্বিক চেহারা ফেঁদে বসলেন। বুদ্ধদেব বসু লিখলেন, অ্যালেন বলছেন, “আমি চাই প্রেরণা, চাই স্বর্গ খুলে যাক আমার সামনে, আমি ভগবানকে চাই।”

তারপর কতো কতো গল্প। তিনি ‘হাউল’ লিখেছেন এক বসায়; পুরো দুই রাত একদিন ধরে। আমি ভাবি, তা কী করে হয়! একজন মানুষের নাওয়া—খাওয়া—ঘুম এসবও তো লাগে। কিন্তু অ্যালেন ওসবের থোড়াই কেয়ার করতেন। অ্যালেনের দ্বিতীয় বই ‘ক্যাডিশ’কে অনেকেই মহাকাব্য জ্ঞান করেন। টানাটানা লাইনে অনেকটাই গদ্যের মতো লেখা এর প্রথম অংশ পড়ে তো আমার তাই মনে হয়েছিলো। ‘হাউল’—এ যেমন উৎক্ষেপণের আবেগ, টেনে নিতে নিতে রাবারের মতো ছিঁড়ে ফেলার আগ পর্যন্ত লম্বা করার প্রবণতা, ‘ক্যাডিশ’—এও সেটা অন্যরকমভাবে ধরা দেয়। No flower like that flower which knew itself in the garden,Ó wK¤^v ÒThat’s all he could do, he looked tired. He’s a bachelor so long, and he liked lentil soup.” এবং এইরকম আরো আরো লাইন, কখনো কখনো হুইটম্যানকে যে ছুঁয়েও যেতে চায় না তা কিন্তু নয়। তবে, ‘প্যাটারসন’ লিখে উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস যতোটা মহাকাব্যিক সফলতা দেখান সেটা কিন্তু গিন্সবার্গে পাওয়া যায় না।

আমি একটা সময় আমার ছাত্রদের কবিতা লেখা শেখাতে গিয়ে বলতাম, “কলম না তুলে কোনো চিন্তা না করে পুরো দশ মিনিট লিখবে। তারপর দশ মিনিট গল্প করবে, এবং পরে ওই কবিতা পড়ে পড়ে এডিট করবে।” হ্যাঁ ‘পোয়েট্রি ক্লাব’—এ আমি ছাত্রদের এইরকম ফ্রি—হ্যান্ড কবিতা লেখার প্র্যাকটিস করিয়েছি। আমার ধারণা অ্যালেন গিন্সবার্গ সারাজীবনই ফ্রি—হ্যান্ড কবিতা লিখেছেন। তবে তিনি কখনো ফিরে গিয়ে সেগুলো এডিট করেছেন বলে মনে হয় না। এ কথা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’—এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যে আবেগ যে অনুভূতি যে চিত্রকল্প তিনি সেখানে এঁকে দিয়েছেন তার অবশ্য কোনো এডিটিং দরকারও হয় না। নিজে শুধু গানই করেননি, তার কাব্যসমগ্রতে কবিতার পাশাপাশি স্বরলিপিও ছেপে দিয়েছেন।


Millions of babies watching the skies

Bellies swollen, with big round eyes

On Jessore Road–long bamboo huts

No place to shit but sand channel ruts


…

One Million aunts are dying for bread

One Million uncles lamenting the dead

Grandfather millions homeless and sad

Grandmother millions silently mad


এরপর তিনি আমেরিকার সরকারের উপরে চটলেন:


Where are the helicopters of U.S. AID?

Smuggling dope in Bangkok’s green shade.

Where is America’s Air Force of Light?

Bombing North Laos all day and all night.


ইউএস এইডের সেই হেলিকপ্টার কখনো রিফিউজি ক্যাম্পে যায়নি। তবে স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরে সেই সংগঠনের টাকায়ই বাংলাদেশের সর্বনাশ করা হয়েছে, একজন পিশাচ তৈরি করে। অথচ, একজন বিদেশি হয়েও গিন্সবার্গ বেঁচে আছেন আমাদের ইতিহাসে। আদতে কবির কোনো স্বদেশ—বিদেশ নেই। “সব দেশই আমার দেশ, সব মানুষই আমার মানুষ,” অতি স¤প্রতি লেখা আমার এই কবিতা দিয়েই হয়তো কবিকে মানুষের পাশে দাঁড় করিয়ে দেয়া যায়।

৩.

এই নিবন্ধ শুরু করেছিলাম আমার চেহারার সাথে গিন্সবার্গের একটি কাকতালীয় মিলের কথা দিয়ে। একবিংশ শতাব্দীর কোনো কবি যে মানুষের কষ্টের কথা ভেবে দুই চারটি উচ্চকিত কবিতা লিখবেন না তাতো হয় না! তাই গিন্সবার্গের সাথে আমার আবারও দেখা হয়ে যায় মেসিডোনিয়ায়। কী অদ্ভুত ব্যাপার, গতবছর স্ট্র্রুগা কবিতা উৎসবে আমাকে বাংলাদেশী কবি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও তাদের ওয়েবসাইট ও অ্যান্থোলজিতে উপস্থাপন করা হয় আমেরিকান কবি হিসেবে। বিগত ষাট বছরে তাদের এই কাব্যযাত্রায় যেসব আমেরিকান কবিকে দাওয়াত করা হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন অডেন, মারউইন, চার্ল সিমিক ও অ্যালেন গিন্সবার্গ। এই কবিসঙ্ঘে নিজের নাম দেখে আমার মনে হলো, তাই তো গিন্সবার্গের শহরেই আমি বসবাস করি। 

২০২৬


Related Posts