শিল্পাঙ্গনের রবীন্দ্র—নজরুল জয়ন্তীতে পরিবেশবিদ ড. নজরুলকে সম্মাননা
বাঙালী প্রতিবেদনঃ লং আইল্যান্ডভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন শিল্পাংগন এক সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ও কাজী নজরুলের জন্মদিন পালন করল গত রবিবার লেভিটটাউন কম্যুনিটি সেন্টারে। শুরুতে তারা সম্মাননা জানায় বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ড. নজরুল ইসলামকে। দুপুর থেকে শুরু হয়ে একটানা অনুষ্ঠান চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। শুরুটা ছিল অন্যরকম। শিল্পাংগনের শিল্পী ও কর্মকর্তাবৃন্দ মিলনায়তনের পিছন থেকে শোভাযাত্রা করে মঞ্চে ওঠে। এ সময় তাদের হাতে ছিল রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের প্রতিকৃতি। আর মাইকে বাজছিল মার্চ সংগীত ‘চল চল চল, উর্ধগগনে বাজে মাদল..’। শোভাযাত্রার সামনে ছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ ও পরিবেশবিদ ড. নজরুল ইসলাম। এরপর মঞ্চে ড. নজরুল ইসলাম, শিল্পাংগনের সভাপতি ডা. আমর আশরাফ এবং আকতার কামাল ও ফালাহ আহমেদ প্রদীপ জ্বেলে অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পরপরই প্রধান অতিথিকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন আকতার কামাল আর সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন ফালাহ আহমেদ। এ সময় আকতার কামাল তাঁর পরিচিতি তুলে ধরেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সংক্ষেপে এই অনুষ্ঠানে সকলকে স্বাগত জানান সভাপতি ডা. আমর আশরাফ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. নজরুল ইসলাম বলেন, আপনারা লং আইল্যান্ডে একত্রে রবীন্দ্র—নজরুল জয়ন্তী পালন করছেন এত ব্যাপক আয়োজনে, এটা দেখে আমি অভিভূত। কারণ রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুল ইসলাম আমাদের জাতিসত্তা নির্মাণে যে ভূমিকা রেখেছেন তা আমাদের জন্য গৌরবের। তিনি বলেন, এই দুই কবির মধ্যে মিলের জায়গাটি হলো, তারা দুজনেই গান লিখেছেন, সুর করেছেন এবং গেয়েছেনও। আজ এতদিন পরেও তাদের গান নিয়ে আমাদের ভালোবাসা একটুও কমেনি। কারণ দুজনই আমাদের অনুভব তুলে ধরেছেন।
ড. নজরুল বলেন, এই দুই মহীরুহ ব্যক্তিকে কবি হিসাবে পেয়েছি, এর জন্য আমরা গর্ব বোধ করতে পারি।
এই উদ্বোধনী পর্বটি চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেন অভিনেত্রী শিরীন বকুল।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই চার কিশোর—কিশোরী পাশাপাশি দাঁড়িয়ে খুব সংক্ষেপে ‘নতুন প্রজন্মের দৃষ্টিতে রবীন্দ্র—নজরুল’ এই ভাবনা তুলে ধরে। এরা হলো নুসায়বাহ কবির, জিয়ানা রিদওয়ান, সৈয়দা আরিয়ানা রিজভী এবং লিয়ানা মাহবিন। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় গান, আবৃত্তি, নাচ, ছোটদের গান, গীতিনৃত্যালেখ্য, রবীন্দ্রনাথের শেষের কবিতার একাংশ অবলম্বনে নাটক এবং ঢাকা থেকে আমন্ত্রিত শিল্পী বুলবুল ইসলাম ও শারমিন সাথী ময়নার রবীন্দ্র সংগীত ও নজরুল সংগীত।
বুলবুল ইসলাম ও শারমিন সাথী পর্যায়ক্রমে একটানা দুই ঘন্টা গান গেয়ে শোনান। তবে শুরুতে ও শেষে তারা যুগলকণ্ঠে গান যথাক্রমে আকাশভরা সূর্যতারা এবং পুরনো সেই দিনের কথা। এছাড়াও বুলবুল ইসলাম গান তোমায় গান শোনাব, কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি, আজি ঝড়ের রাতে ইত্যাদি। আর শারমিন সাথী শোনান শাওন রাতে যদি। এছাড়াও তিনি নজরুলের শ্যামা সংগীত ও ইসলামী গান গেয়ে শোনান।
এর আগে অনুষ্ঠানের সংগীত পরিবেশন করেন আয়ানা মাহিবা, নুসায়বাহ কবির, শান্তা মনি, শফিউল আলম, সোনিয়া পান্না, স্বপ্না ওসমান, রুবিনা চৌধুরী, তাসনিম খান, মৌসুমী রহমান, সুফিয়া বেগম, ইশরাত লিপি, তুবা মুক্তাদির, ফাহমিদা ইয়াসমিন, সুলতানা খানম, সামিনা আশরাফ, রাফিয়া খান, শাহপার ইসলাম, ফারজানা সুলতানা, গাজী সালাহউদ্দিন, মাহনাজ হাসান। আবৃত্তি করেন জান্নাত সুলতানা, মো. নজরুল ইসলাম, নাদিয়া সাঈদী, শাহীনূর শানু, হুসেইন শরীফ আহমেদ, শফিউল আলম। নৃত্য পরিবেশন করেন শান্তা মনি, আনুশা হোসেন, লিয়ানা মানহা। শেষের কবিতায় ছিলেন ড. মো. নজরুল ইসলাম এবং শাহরুখ তাসনিম।
