ক্রান্তিকাল—৯২ || হাসানআল আব্দুল্লাহ
১০৭
চা শেষ হলে তিনি উঠে দাঁড়ান। ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাওয়া ভাবনাগুলো এখন মনে হয় দইয়ের মতো জমাট বেধেছে, কিংবা কঠিন শিলাখন্ডের মতো ব্রেনের ভেতরে আটকে গেছে। যন্ত্র চালিতের মত তিনি হেঁটে হেঁটে দেয়াল জুড়ে থাকা বইয়ের র্যাকের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। নানা সময়ে সংগ্রহ করা কত কত বই। বইয়ের ভেতর ডুবে থাকতে তার ভাল লাগে। কত কত স্মৃতি আটকে আছে এইসব বইয়ের ভেতরে। কত কত সময় কাটিয়েছেন তিনি এইসব বই নিয়ে। কত কত গল্প বিস্তৃত হয়ে আছে প্রতিটি বইয়ে। তার মনে হয় র্যাকের নানান এলাকা থেকে নানান রকম বই তার দিকে হাত নাড়ছে। তাকে পেয়ে আনন্দে হেসে উঠছে। র্যাক থেকে বেশ কয়েকটি বই নামান। সোফার ওপরে রাখেন। তিনিও সোফায় গিয়ে বসেন। দুই একটা বইয়ের পাতা উল্টান। ঘ্রাণ নেন। পবিত্র এই ঘ্রাণ তাকে বিমোহিত করে। হাতে তুলে নেন ‘বিশশতকের বাংলা কবিতা’। বেশ কয়েক বছর আগে সংগ্রহ করেছিলেন। পাতা উল্টাতে উল্টাতে জীবনানন্দে গিয়ে থিতু হন। পড়েন ‘বোধ’, ‘বনলতা সেন’, ‘ক্যাম্পে’। কী অসামান্য বুনন, তিনি ভাবেন, কী অসামান্য জীবন বোধ। মৃত্যুর কাছাকাছি দাঁড়িয়েও জীবনানন্দকে উপভোগ করা যায়। ‘আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে—এই বাংলায়/ হয়তো মানুষ নয়—হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে;/ হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে/ কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠাল—ছায়ায়।’ পড়তে পড়তে আতাভাইয়ের দু’চোখ বেয়ে জল নেমে আসে। মনে মনে ভাবেন বাংলায় আর ফিরে যাওয়া হবে না। তিনি আগেই স্ত্রী ও সন্তানকে বলে রেখেছেন, ‘তোমরা থাকো এই দেশে, শুধোশুধি আমাকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করো না, আমি এখানে তোমাদের কাছেই থাকতে চাই। এখানকার কোনো একটা গোরস্থানে আমাকে রেখে এসো। অন্তত তোমরা সুযোগ পেলে আমাকে দেখে আসতে পারবে।’ কথাগুলো মনে পড়ে, চোখের জলের ধারা আরো বেগবান হয়। আতাভাইয়ের মনে হয়, পৃথিবী বড় সুন্দর, আমরা চলে যাবার জন্যে আসি বলেই এই সৌন্দর্য আমাদের কাছে হীরের চেয়েও মূল্যবান।
আতাভাই আবেগকে প্রশমিত করেন। হাতে তুলে নেন বিশাল মহাভারত। তিনি একজন মহাভারত বিশেষজ্ঞ। আপনাকে বহুবার বলেছেন, রবীন্দ্রনাথে এমন কিছু নেই যা মহাভারতে নেই। মহাভারত না থাকলে রবি ঠাকুরের জন্ম হতো না। তিনি চারবার পড়েছেন এই বিশাল মহাকাব্যখানা। এবং প্রায়ই হাতে সময় থাকলে পাতা উল্টান। মনে মনে ভাবেন, আঠারো দিনের কৌরব ও পান্ডবদের যুদ্ধে কত কত প্রাণের বলিদান হলো। কুরুক্ষেত্রে পড়ে রইলো লক্ষ লক্ষ সৈনিকের লাশ। কী ভয়াবহ বিপর্যস্ত, বিবর্ণ সময় ছিলো সেটি। খ্রীষ্টপূর্ব ৩১৩৮ অব্দে সংঘটিত হয়েছিলো এই যুদ্ধ, বর্তমান ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে। একই পরিবারের দুই শরিকের মধ্যে যুদ্ধ। কৌরবরা অন্যায়, অবিচার, জোর—জবরদস্তিতে বিশ্বাসী আর পান্ডবরা ছিলেন সততা, ন্যায়, কর্তব্য ও ধর্মে অনুগত। কত কত গল্প দিয়ে সাজানো এই সমৃদ্ধ গ্রন্থখানা, এমন কোনো গল্প আমরা বলি না, কিংবা ভাবতে পারি না যা মহাভারতে নেই। উদারতা, মানবিকতার গল্প যেমন আছে তেমনি নির্মমতা, অত্যাচরের চরম উদাহরণও এখানে পাওয়া যায়। একক দ্রৌপদীর পাঁচ স্বামী—আতাভাই নিজে নিজে হাসেন, এ—ও কি সম্ভব! কিছুদিন আগে তিনি খবরে পড়েছেন ভারতে নারীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় কোনো কোনো অঞ্চলে এখনও এক নারীকে একাধিক স্বামী গ্রহণ করতে হয়। অবশ্য তিনি জানেন ঘটনাটি দুই একটি ট্রাইবাল অঞ্চলে ঘটে। এক নারীর একাধিক স্বামী থাকার প্রথাকে বলে পলিএন্ডি্র বা বহুপুরুষ। এই প্রথাটি বিশ্বের নানা অঞ্চলে প্রাচীন কালে চালু ছিলো। সুমেরীয় রাজা উরুকাগিনা অনুমানিক ২৩০০ খ্রিস্টপূর্ব অব্দে মেসোপটেমিয়ায় এই প্রথা আইন করে বাতিল করেন। আতাভাই বুঝতে চেষ্টা করেন, মহাভারত যদিও মহাকাব্য তথাপি মানুষের জীবনের ঘটে যাওয়া বিষয়াদি: প্রথা, আচার, সামাজিকতা, সংগ্রাম, স্বাতন্ত্র, সম্মোহন, স্ববিরোধিতা ইত্যাদি নিয়ে রচিত একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন—গ্রন্থ যার মূল লক্ষ্য হলো সততার জয়, অসতের ক্ষয়।
এইসব ভাবনা চিন্তার মাঝে চোখ তুলে দেখেন সামনে ভাবী দাঁড়ানো। ‘খাবার দেব? রান্না হয়ে গেছে। তোমার জন্যে নরম ভাত করেছি।’ তার খাওয়া একেবারের রেস্টি্রকটেড, পেটে কিছুই থাকে না। তাই নরম ভাত করে দিতে হয়। নানারকম ভর্তা, সামান্য মাংসের ঝোল, আর কখনো কখনো ডাল। মাংসটাও গলিয়ে দেন যাতে গিলতে অসুবিধা না হয়।
‘খাবার দেবে, দাও।’ আতাভাই উঠতে চেষ্টা করেন।
‘না, উঠো না,’ ভাবী বাধা দেন, ‘আমি এখানেই নিয়ে আসছি।’ তিনি দ্রুত কিচেনের দিকে যান। যেতে যেতে বলেন, ‘খেয়ে একটা টানা ঘুম দাও। দুঃশ্চিন্তা কেটে যাবে।’
বিকালে আবার ফোন আসে মন্টিফেয়ার আইনেস্টাইন কি¤প্রহেনসিভ ক্যানসার সেন্টার থেকে। অনকোলজিস্ট ডা. ইন—এর নার্স কথা বলেন কেমোর স্ক্যাজুয়াল তৈরি করার জন্যে। কিন্তু তখনও আতাভাই না করে দেন। অথচ নার্স নাছোড়বান্দা! বলেন, ‘কাল আবার ফোন করবো।’ আতাভাই বলেন, ‘আমাকে বাঁচানোর জন্যে আপনারা যতটাই উদগ্রীব, আমি আসন্ন কষ্টের কথা ভেবে ততটাই পিছ—পা।’ নার্স বলেন, ‘কিন্তু আপনি যে মন্টিফেয়ার মেডিকেল সিস্টেমের মধ্যে আছেন, আপনার সুচিকিৎসা দেবার জন্যে আমাদের ওপরও চাপ রয়েছে। আমাদের গাফিলতির জন্যে যদি আপনার কোনো ক্ষতি হয় তার জন্যে আমরাই দায়ী হবো। ডাক্তারের বিশ্বাস কেমো নিলে আপনি ভালো হয়ে যাবেন। অন্তত ডা. ইন—এর চেম্বারে একবার এসে কথা বলে দেখুন।’ আতাভাই বলেন, ‘আমাকে আরেকটু ভাবতে দিন।’
এরমাঝে ভাবী আপনাকে কল করেন, ‘জহির ভাই, আপনার ভাইকে একটু বোঝান। কেমো নিতে চাচ্ছেন না। এইভাবে বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখা যায়।’
আপনি বলেন, ‘কিন্তু ভাবী, সিদ্ধান্তটা তো তাকে নিতে হবে। তার সাথে আপনারা কথা বলেন, বোঝানোর চেষ্টা করেন।’
‘আপনি একটু কথা বলে দেখেন,’ ভাবী আবদার করেন।
‘ঠিক আছে আমি ফোন দিচ্ছি!’ আপনি ভাবীর ফোন কেটে দিয়ে আতাভাইকে রিং করেন। কিন্তু তিনি ফোন ধরেন না। আবারো রিং করেন, এবার ফোন ধরেন তিনি। বলেন, ‘জহির, এখন কথা বলতে ইচ্ছা হচ্ছে না।’
‘তাহলে পরে রিং দেই।’ আপনি অনুমতি চান।
‘হ্যাঁ, ঘণ্টাখানেক পরে ফোন দাও, আমি একটু ঘুমাবো।’ ফোন রেখে দেন আতাভাই। তবে ঘণ্টাখানেক পরে তিনিই ফোন দেন। বলেন, ‘জহির, আজ মহাভারত নিয়ে বসেছিলাম। আদতে জানো তো, সত্যের জয় হবেই।’
‘তবে সেই জয় আসতে দেরী হয়, আতাভাই। অনেক কাঠখড় পোড়ে, জলের স্রোত অনেকটা গড়িয়ে যায়, অনেক রক্ত ঝরে, আকাক্সক্ষার কবর হয় তারপর জয় আসে।’ আপনি একমত হন।
‘এই দেখো, চারিদিকে করোনা, যদিও এখন একটু কমে এসেছে। সিংহভাগ মানুষ ভ্যাকসিন নিতে পেরেছে। ভীতি কমেছে। কিন্তু তারপরেও একটি আতঙ্ক বিরাজ করছে। করোনা হলো অশুভ, এই অশুভর বিরুদ্ধে শুভর লড়াই মহাভারতের কথা; ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ ইত্যাদির ভেতর দিয়ে দর্শনের উদারনৈতিক ভুবনে প্রবেশ।’ আতাভাই তখনও মহাভারত নিয়ে মজে আছেন।
‘কিন্তু আতাভাই এই যে আপনি বললেন, সিংহভাগ মানুষ ভ্যাকসিন নিয়েছে। এই ভ্যাকসিনই হলো অশুভর সাথে লড়াইয়ের প্রধান অস্ত্র। তার মানে অশুভের সাথে লড়তে হলে চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ক্যান্সারও অশুভ, তা থেকে মুক্তি পেতে হলে চিকিৎসা নেয়া জরুরি। কি বলেন?’
‘যদি তুমি জানো যে চিকিৎসা নেবার পরও কোনো উপকার হবে না। তুমি শুধোশুধি কষ্ট পাবে!’ যুক্তি দাঁড় করান আতাভাই।
‘এক্সিডেন্ট করে মারা যাবো বলে আমি প্লেনে চড়বো না, সেটা কি হয়? হয় না। তাহলে আমি আপনি ভাবী আমরা কেউ এই দেশে আসর জমাতে পারতাম না।’ আপনিও পাল্টা যুক্তি দাঁড় করান।
‘আচ্ছা ভেবে দেখি।’ আতাভাই না—রাজি হয়ে ফোন ছাড়েন।
সন্ধ্যার পর ছেলে সূর্য, ছেলেবউ সারথি, ভাবী সবাই মিলে আতাভাইয়ের রুমে আসেন। আতাভাই তখন ডিভানে বসে কিন্ডেলে স্টিফেন হকিংয়ের লেখা ‘আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’ পড়ছিলেন। সূর্যকে পেয়েই বললেন, ‘তোমাকে এই বইটি দিয়েছিলাম পড়তে। কিন্তু পড়ে দেখলে না। আমার র্যাকে আছে সময় করে পড়ে নিও। এই মহাবিশ্বে আমরা কোত্থেকে কিভাবে এলাম এটা জানা দরকার।’
ইতিমধ্যে সবাই কার্পেটে বসে পড়েছেন। ভাবী আতাভাইয়ের ডান পাশটায় ওয়াল ঘেঁষে বসেছেন। সূর্য ও সারথি একটু দূরে আতাভাইয়ের মুখোমুখি পাশাপাশি বসলেন। সারথি বললেন, ‘বাবা আজকে আমরা অন্য কথা বলতে এসেছি।’
‘ঠিক আছে বলো। কিন্তু তোমরা কি বলবে আমি তা জানি।’ আতাভাই কিন্ডেলটা ডিভানের একপাশে রেখে সারথির দিকে তাকালেন।
ভাবী বললেন, ‘দেখো, এই দেশে ক্যান্সারের সুচিকিৎসা আছে। তুমি সেটা নেবে না কেন!’
সূর্য বললেন, ‘আমি যদি অসুস্থ হতাম তুমি আমাকে বিনা চিকিৎসায় রাখতে পারতে?’
আতাভাই বললেন, “দেখো আমি বুঝতে পারছি তোমরা আমাকে নিয়ে চিন্তিত। আমি নিজেও কম চিন্তিত নই। নৌকো যখন প্রচন্ড ঝড়ে পড়ে তখন শুধু আরোহীরাই নন, মাঝিও ভয় পান। মৃত্যুর ভয় কার না আছে? আমি সবসময় বলে এসেছি যে মৃত্যুকে আমি ভয় পাই না। এখনও পাই না। কিন্তু সব ছেড়ে চলে যেতে হবে এটা কেইবা চায়!’
‘কিন্তু বাবা কেমো নিলে তো আপনি ভাল হয়ে যাবেন।’ সারথি বলেন, ‘ডাক্তার তো তাই বলছে।’
‘আমাকে যে যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে যেতে হবে তা কি তোমরা বুঝতে পারছো না!’
‘তুমি যদি অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়ে থাকো, তাহলে তো যন্ত্রণা আরো বেশি পাবে।’ ভাবী বোঝানোর চেষ্টা করলেন, ‘সেটা যাতে না হয় সেই চেষ্টাটা আমরা করতে চাই।’
‘ঠিক আছে করো। কিন্তু আমি জানি কোনো কিছুতেই কিছু হবে না। আমার সময় খুব বেশি দিন নেই।’
‘কার সময় কখন ফুরিয়ে যায় কিছুই বলা যায় না। আপনি ভালো হয়ে যাবেন,’ সূর্য প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
‘তাছাড়া আমাকে নিয়ে টানাটানি করতে গিয়ে তোমাদের সময় নষ্ট হবে।’
‘তা না হয় একটু হলোই, কিন্তু তোমাকে আমরা বিনা চিকিৎসায় থাকতে দেব না।’ ভাবী বলেন।
‘ঠিক আছে কাল কেমোর জন্যে স্ক্যাজুয়াল করো। আমি যাবো।’
দু’দিন বাদেই ডা. ইন—এর চেম্বারে যান আতাভাই। ভাবীই তাকে উবারে করে নিয়ে যান। কিন্তু করোনার রেস্টি্রকশনের জন্যে ভাবীকে আউটডোর ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করতে হয়। ডাক্তার আতাভাইকে কেমোথেরাপি সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেন। কারণ জন মনে এই থেরাপি নিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক রয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেখুন ভয় পাবার কিছু নেই। আপনাকে স্যালাইনের মাধ্যমে কেমো দেয়া হবে। এটি এক ধরনের তরল ওষুধ যা শরীরের সবখানে ছড়িয়ে দেয়াই আমাদের কাজ।’ তিনি এন্ডোস্কোপি থেকে পাওয়া আতাভাইয়ের পাকস্থলির ছবিটি কম্পিউটার স্ক্রিনে রেখে ক্যান্সারের ক্ষতস্থানগুলো নির্দেশ করে বলেন, ‘এই সব স্থানে ক্যান্সার দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। ওষুধ এই ক্যান্সার সেলগুলোকে আক্রমণ করে ধ্বংস করতে থাকবে এবং এদের বৃদ্ধি রোধ করবে।’
‘কেমো নিতে আমার কোনো কষ্ট হবে না?’ আতাভাই জিজ্ঞেস করেন।
‘স্যালাইন নিতে যাটুকু কষ্ট হয়, তারচে’ বেশি নয়। তবে কেমো নেবার পর আপনি দুর্বলতা অনুভব করবেন। হাঁটতে ইচ্ছা করবে না, খেতে ইচ্ছা করবে না। কারো কারো অবশ্য মাথার চুল উঠে যেতে থাকে। তবে এসব তেমন গুরুতর হবে বলে মনে হয় না।’
আতাভাই নিজের মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন, ‘আমার মাথায় তো চুলই নেই, যা আছে এর আর কি উঠবে?’
‘তবে আপনাকে কিছু প্রস্তুতি নিতে হবে। যেমন যে ঘরে থাকবেন সেই ঘরের সাথে বাথরুম থাকলে ভালো হয়। কেমো নেবার পর ইনফেকশন জাতীয় কিছু না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ফলে আপনার ঘরে অন্য কেউ সচরাচর না ঢোকে সেটাও খেয়াল রাখা দরকার। তাছাড়া খাবার তো ইতিমধ্যেই আপনি নরম করে খান। কেউ একজন আপনার জন্যে রান্না করে দিলে ভালো হয়।’
‘আমার স্ত্রী ও ছেলেবউ সেটা নিয়মিত করেন।’
‘তাহলে তো বেশ। আমি নার্সকে বলে দেবো আপনার স্ত্রীকেও বিষয়গুলো বুঝিয়ে দিতে। নার্স ফোনেই বিস্তারিত বলে দেবেন।’ ডাক্তার পাশের বেসিনে হাত ধুয়ে এসে বলেন, ‘তাছাড়া আপনাকে কেমো নেবার দিন কিছু প্রস্তুতি নিতে হবে যেমন একটু বেশি করে পানি খাবেন, সাথে কাউকে নিয়ে আসবেন যিনি আপনাকে বাসায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। একটু মাথা ব্যথাও হতে পারে। আমরা আগামী সপ্তাহ থেকে আপনার চিকিৎসা শুরু করবো। আপাতত সপ্তাহে একটা করে থেরাপি দেয়া হবে।’
ডাক্তারের কথা মতো পরের সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন প্রথম কেমোটি দেয়া হলো। ডাক্তারের অফিসে ঘণ্টাখানেক সময় লাগলেও, কেমো শেষ হয়ে যাবার পর আরো আধাঘণ্টা তাকে অবজারভেশনে রাখা হলো। আতাভাই কোনো পরিবর্তন বুঝতে পারলেন না। মনে হলো শরীরের অবস্থা একই রকম আছে। মাথা ব্যথা, হাত—পা ব্যথা, কিংবা দুর্বল লাগা এমন কিছুই হলো না। ভাবী কেমো শেষে তাকে বাসায় নিয়ে এলেন। ইতিমধ্যে আতাভাইয়ের পড়ার রুম কাম ডাইনিং রুমে পার্টিশন দিয়ে তার থাকার ব্যবস্থা করা হলো। তিনি বললেন, ‘এখানে পাশেই বাথরুম আছে। আমি নিজের মতো করে সব কিছু হাতের কাছে পাবো।’ শুধু পার্টিশনটা দেয়া হলো যাতে তার রুমে অন্য কেউ প্রবেশ না করে।
