নতুন করে আক্রমণের ঘোষণা দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বললেন || ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ
বাঙালী প্রতিবেদনঃ সভ্যতাকে ধ্বংস করে দেয়ার হুমকি দিয়ে শুরু করা ইরান যুদ্ধ শেষ করার ঘোষণা দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালির কাছে আমেরিকার হেলিকপ্টার ভূপাতিত করা এবং বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে মার্কিন ঘাটিতে মিসাইল ও ড্রোন হামলার পর বৃহস্পতিবার সকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জোরালো ভাষায় হুমকি দেন যে ঐ রাতেই ইরানে তিনি ভয়াবহ আক্রমণের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু দুপুরে খবর এলো প্রেসিডেন্ট সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করেছেন। তার পরিবর্তে জানালেন যুদ্ধ শেষ। খুব শিগগিরই মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করবে। প্রাপ্ত খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটেছে এবং তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সিনেট প্রার্থী ব্যারি মুরের সমর্থনে আয়োজিত এক টেলি—র্যালিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আপনারা হয়তো শুনেছেন, আমরা আজ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছি। তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে সম্মত হয়েছে, আর এটিই ছিল আমাদের প্রধান শর্ত।
ট্রাম্প বলেন, আজ আমরা ইরানের সঙ্গে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলেছি। তিনি আরো দাবি করেন, আমরা একটি দারুণ চুক্তি করছি। সেখানে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। খুব শিগগিরই মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করবে। বিষয়টি প্রায় সম্পন্ন হয়ে গেছে। আমরা যা চেয়েছিলাম, তার সবই পেয়েছি।
এদিকে একইদিন ইরানের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে সমর্থকদের সঙ্গে এক ফোনালাপে ট্রাম্প বলেন, সবচেয়ে বড় কথা হলো ইরানে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। এর মানে হলো তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিও করবে না, কিনবেও না।
তিনি আরো বলেন, তাদের (আগের চুক্তিতে) একটি ধারা ছিল যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। আমি বললাম, তাহলে কেনার ব্যাপারে কী হবে? তারা বলল, আসলে, আমরা বিষয়টি এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করিনি। এরপর, দুই দিন পরেই তারা এই শর্তেও রাজি হয়ে গেল। আমরা যা যা চেয়েছিলাম, তার সবকিছুই পেয়েছি।
এর আগে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তির খসড়া সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অনুমোদনের কথা জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ চুক্তির প্রেক্ষিতে ইরানে বৃহস্পতিবার রাতের সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা স্থগিতের ঘোষণাও দেন তিনি। তবে এ বিষয়ে ইরান জানিয়েছে, তারা চুক্তির বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’—এ দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান এবং মিসরসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলী অনুমোদন করেছে। তিনি জানান, ইরানের নেতৃত্বের ‘সর্বোচ্চ পর্যায়’ থেকে আলোচনার বিষয়টি অনুমোদিত হওয়ার পর তিনি পূর্বনির্ধারিত হামলা ও বোমাবর্ষণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। চুক্তির স্থান ও সময় খুব দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ দাবির বিপরীতে তেহরান ভিন্ন কথা বলছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘ফারস’ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তির খসড়া এখনো ইরানের পক্ষ থেকে অনুমোদিত হয়নি। এছাড়া ‘তাসনিম নিউজ’ ট্রাম্পের এ ঘোষণাকে নাকচ করে দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, অতীতেও ট্রাম্প এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন যা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। যতক্ষণ না ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সমঝোতার ঘোষণা দেয়, ততক্ষণ পর্যন্ত ট্রাম্পের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে ইরানের গণমাধ্যম।
এদিকে রয়টার্স বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক আগামী রবিবারের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে পারে। শুক্রবার একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। চুক্তি সইয়ের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে এগিয়ে রয়েছে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম।
ওই কর্মকর্তা জানান, স্মারকের ভাষা চূড়ান্তের কাজ এখনো চলছে। লেবাননে চলমান যুদ্ধকেও এই চুক্তিতে রাখার দাবিতে অনড় রয়েছে ইরান।
শনিবারের মধ্যে চুক্তির ভাষা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নিজ নিজ দেশের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ চুক্তিতে সই করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের বলেন, চুক্তির শর্ত চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় ইরানে নতুন হামলা বাতিল করছেন তিনি। তাঁর ভাষ্যমতে, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের একটি বড় সমাধানে পৌঁছেছি।’
শুক্রবার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে মনে হচ্ছে, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তেহরান তাদের অধিকাংশ দাবি আদায় করে নিচ্ছে।
চুক্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত থেকে এটাই ট্রাম্পের একমাত্র অর্জন বলে মনে হচ্ছে।
একজন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, চুক্তির খসড়ায় ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, কোটি কোটি ডলারের আটকে রাখা সম্পদ ছাড় এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে হামলা বন্ধের বিষয় থাকবে।
প্রাথমিক চুক্তিতে পারমাণবিক ইস্যু থাকবে না। তা পরবর্তী আলোচনার জন্য তোলা থাকবে।
