ঋত্বিক ঘটকের জন্মশতবার্ষিকীতে || আশিস ভৌমিককে নিয়ে নাট্যজনদের প্রণতি

বাঙালী প্রতিবেদনঃ নিউইয়র্কে বাঙালিদের পাঁচটি থিয়েটার গ্রুপের উদ্যোগে ঋত্বিক ঘটকের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে শতবর্ষের প্রণতি জানানো হলো। তবে চলচ্চিত্রের বিরলপ্রজ পুরুষ ঋত্বিক ঘটককে নয়, আলোচনার বিষয় ছিলেনথিয়েটারে ঋত্বিক ঘটক আর যিনি এই প্রণতি জানানোর মূল জন তিনি হলেন কলকাতা থেকে আসা নাট্য গবেষক সমালোচক আশিস ভৌমিক। . আশিস ভৌমিক নাটক সহ নাটক সম্পর্কিত ২৫টি বইএর প্রণেতা। আর পিএইচডি করেছেন নাটক বিষয়ে।

. ভৌমিকই ছিলেন এই নাট্য বৈঠকের একমাত্র বক্তা বা আলোচক। তবে তার মূল বক্তব্যের সূত্র ধরে নিউইয়র্কের নাট্যামোদী নাট্যজনেরা প্রশ্নের মাধ্যমে আলাপচারিতায় অংশগ্রহণ করেন। আশিস ভৌমিক শুরুতেই জানান, তিনি নিজেকে নাটকের একজন একটিভিস্ট বলতে পছন্দ করেন। বললেন, প্রধানত নাটক বিষয়ে ডকুমেন্টেশনের কাজ করছেন তিনি।

তিনি জানালেন, ঋত্বিক ঘটক কেবল সিনেমার মানুষ নন, থিয়েটারেরও। তাকে নিয়ে অনেক ভুলভাল্ কাজ হচ্ছে, এটা জানতে পেরে আমি তাঁর ওপর কাজ শুরু করি।

আশিস ভৌমিক বলেন, ১৯৫২ সালে নাগরিক ছবিটি মুক্তি না পাওয়ায় তিনি প্রায় পাগল হতে শুরু করেন। কিন্তু নাটক তাঁকে বাঁচিয়ে দেয়। তিনি ১৯৫০ থেকে ১৯৭৮ পর্যন্ত প্রায় ৩৪টি নাটক লেখেন। আমরা অনেকেই জানি তিনি সিনেমার মানুষ। অথচ তিনি সারা জীবন সিনেমার চেয়ে নাটক নিয়ে বেশি কথা বলেছেন। এমন কি সিনেমার কাগজ নয়, ঋত্বিক ঘটকঅভিনয় দর্পননামে নাটকের পত্রিকা প্রকাশ করেছেন। এই পত্রিকার ১২টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। সবচেয়ে মজার তথ্যটি হলো তিনি মাত্র ১১ বছর বয়সে একটি নাটকে চানক্যের অভিনয় করেন।

. ভৌমিক জানান, ১৯৫০ সালে তিনি নীলদর্পন, ১৯৫৫ সালে বিসর্জন করেন। ১৯৫০ সালে জ্বালা নাটকটি লেখেন। দেশ পত্রিকা লেখে ঋত্বিক ঘটক গণনাট্য ছেড়ে দেয়ার পর নাটক লেখা শুরু করেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তিনি গণনাট্য ত্যাগ করেন ১৯৫৫ সালে। অথচ এর আগে তিনি বেশ কয়েকটি নাটক লিখে ফেলেছেন। তিনি যেসব নাটক লেখেন এবং যেসব নাটকে কাজ করেন সেগুলো হচ্ছে, চন্দ্রগুপ্ত ১৯৩৬ সালে, নটির পূজা ১৯৪২ সালে, অচলায়তন ১৯৪৩ সালে, রাজা ১৯৪৬, জাগরণ কালো সাওয়ার ১৯৪৭ সালে, নবান্ন ১৯৪৮ সালে, ঢেউ পথিক ১৯৪৯, কলংক ১৯৫১, ভাঙাবন্দর ১৯৫৩। আরো আছে নিচের মহল, স্ত্রীর পত্র, গ্যালিলিও, ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে, ইত্যাদি। এর কোনোটি তার লেখা, কোনোটি অন্যের। তবে এর অনেকগুলি তিনি নির্দেশনা দিয়েছিলেন, অভিনয়ও করেছিলেন। পঞ্চাশের দশকে ঋত্বিক ঘটকের লেখা একটি নাটক সারা ভারতবর্ষে প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছিল।

দীর্ঘ আলোচনা আলাপচারিতায় তিনি বিপুল তথ্য দেন ঋত্বিক ঘটকের সাথে থিয়েটারের সম্পৃক্ততা নিয়ে। প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন এজাজ আলম, সাগর লোহানি, সুমন মাসউদ, রোকেয়া রফিক বেবি, আহমাদ মাযহার কৌশিক আহমেদ।

শুরুতে . আশিস ভৌমিককে উপস্থাপন করেন নাট্যজন শামসুল আলম বকুল। এরপর উপস্থিত নাট্যজন সংস্কৃতিজনরা নিজেদের পরিচয় তুলে ধরেন। তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান শিল্পাংগনের . নজরুল ইসলাম, উত্তরীয় পরিয়ে দেন কৃষ্টির শিতেষ ধর। এছাড়াও তাকে নিউইয়র্কের সম্প্রতি হয়ে যাওয়া নাট্যোৎসবের স্যুভেনির প্রদান করা হয়।

জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে এই শতবর্ষের প্রণতির আয়োজক নিউইয়র্কের পাঁচটি নাটকের গ্রুপ বাংলাদেশ থিয়েটার অব আমেরিকা, ঢাকা ড্রামা, এক্সাইল, কৃষ্টি, অন ডায়ালগ শিল্পাংগন।

Related Posts