মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেস হারানোর আলামত || ইরান যুদ্ধেই রিপাবলিকানদের ভাগ্য নির্ধারণ!

বাঙালী প্রতিবেদনঃ আমেরিকা যখন গত সপ্তাহে নতুন করে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, প্রত্যুত্তরে ইরানের ড্রোন আছড়ে পড়ছে কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, তখন বৃহস্পতিবার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স হোয়াইট হাউজের প্রেসরুমে এসে এক লাইভ সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ইরানে কোনো যুদ্ধ হচ্ছে না। তিনি এটাকে যুদ্ধ বলতে নারাজ। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর সময় প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন মাত্র / সপ্তাহের মধ্য ইরান ধরাশায়ী হবে। ছয় মাস হতে চলল কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, এটাকে তিনি যুদ্ধ বলতে চান না, এটা দ্বন্দ্ব। তবে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবতীর্ নির্বাচনের আগেই এর পরিসমাপ্তি হওয়া উচিত। এসোসিয়েটেড প্রেস বৃহস্পতিবারই এই খবরটি দিয়ে বলছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট যখন এই দ্বন্দ্বকে যুদ্ধ বলতে অস্বীকার করছেন, তখন কুয়েতে ড্রোন আক্রমণ চালায় ইরান। ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা যুদ্ধ করছি না। যুদ্ধ থামার প্রশ্নটি বরং আপনারা ইরানকেই জিজ্ঞাসা করুন। তার ভাষায়, ‘ ড়িঁষফহ পধষষ রঃ ধিৎ 

উল্লেখ্য ইরানের যুদ্ধ এত দীর্ঘায়িত হবে, এর ফলে আমেরিকায় পেট্রোলের দাম বেড়ে আকাশচুম্বি হবে সেই সাথে অন্যান্য পণ্যের মূল্যও বাড়বে, আমেরিকার এমন কোনো হিসাব না থাকায় ইরান যুদ্ধ আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবতীর্ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের মাথা ঘুরিয়ে দিচ্ছে। কারণ কংগ্রেসের হাউজ সিনেটে খুব সামান্য ব্যবধানে তাদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর যাবতীয় আলামত ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।

উল্লেখ্য ইরান যুদ্ধ আমেরিকার জনগণের কাঁধে চেপে বসে যখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হয়, তখন আকস্মিক ক্রুড অয়েলেল দাম বেড়ে ১০০ ডলার ব্যারেল ছাড়ায়। কিন্তু ছয় মাস পরেও, যখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পণ্যবাহী জাহাজ ট্যাংকার চলাচল আংশিক শুরু হয়েছে, তখনও পেট্রোলের দাম কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেল প্রতি ক্রুড অয়েলের দাম ছিল প্রায় ৭২ ডলার।

সংবাদ সম্মেলনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্র আগের দিন বুধবার ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল অয়েল পাহারা দিয়ে হরমুজ প্রণালি পার করেছে, আর আমেরিকার এনার্জি সেক্রেটারি সিএনবিসি টিভিতে দাবি করেন, সোমবার ১৭ মিলিয়ন ব্যারেল অয়েল তারা পারাপারে সহায়তা করেছে। কিন্তু কারণে গ্যাসের দাম কমার পরিবর্তে আমেরিকায় আরো বেড়েছে।

এসোসিয়েটেড প্রেস বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই প্রেসিডেন্ট দাবি করে আসছেন, ইরানের ক্ষমতা নিঃশেষ হয়ে গেছে। তাদের সাথে সমঝোতা আলোচনা চলছে। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন লক্ষণীয় নয়। যদিও ইরানী কর্মকর্তারা বলছেন, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সে দেশের ২৭০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

এপি জানাচ্ছে, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যে অশান্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার কারণে বেশি বিরক্ত আমেরিকার জনগণ, বিশেষ করে গ্যাসসহ নিত্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে। এর যদি আকস্মিক সমাধান না হয় নভেম্বরের আগে, তাহলে মধ্যবতীর্ নির্বাচন রিপাবলিকানদের জন্য কংগ্রেস হাতছাড়া করার পথ তৈরি করে দেবে।

Related Posts