জন্মগত সিটিজেনশিপ আবারও হোচঁট খেল হোয়াইট হাউজ
বাঙালী প্রতিবেদনঃ আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করলে তাকে সিটিজেনশিপ না দেয়ার সর্বশেষ নির্বাহী আবেদনকেও নাকচ করে দিল আদালত। গত বুধবার মেরিল্যান্ডের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ ডেবোরাহ এল. বোর্ডম্যান একটি ইনজাংশন অর্ডার জারি করেন। যতদিন ইমিগ্রান্ট পরিবারের পক্ষ থেকে এই আদেশের বিরুদ্ধে ক্লাস—এ্যাকশন ল স্যুট দায়ের করা না হবে, ততদিন এই ইনজাংশন বলবত থাকবে।
এসোসিয়েটেড প্রেস বৃহস্পতিবার পরিবেশিত এই খবরে বলছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবিধানের চতুদ্দর্শ সংশোধনী উপেক্ষা করে আমেরিকায় বার্থরাইট সিটিজেনশিপ বা জন্মগত সিটিজেনশিপের অধিকার কেড়ে নেয়ার লক্ষ্যে নির্বাহী আদেশের আশ্রয় নিয়েছেন।
চতুদ্দর্শ সংশোধনীতে অর্থাৎ বর্তমান সাংবিধানিক আইনে বলা হয়েছে যারা যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মগ্রহণ করবে তারা (কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া) এদেশের নাগরিকত্ব পাবে। আমেরিকার সিভিল ওয়ারের পরপরই ১৮৬৮ সালে চতুদ্দর্শ সংশোধনী গৃহীত হয়।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নির্বাহী আদেশে বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রে আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্ট অথবা যারা অস্থায়ীভাবে এদেশে অবস্থান করছে তাদের সন্তানরা এদেশে জন্মগ্রহণ করলেও সিটিজেনশিপ দেয়া হবে না। গত জুন মাসে সুপ্রিম কোর্ট এই আদেশ নাকচ করে দেয়।
ফলে আগস্ট মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরেকটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, তাতে বলা হয় যারা বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে কর্মরত বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং এদেশে অস্থায়ী ভিত্তিতে অবস্থান করছেন তাদের সন্তানরা এদেশে জন্মগ্রহণ করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। তাছাড়াও আমেরিকায় ট্যুরিস্ট ভিসায় এসে সন্তানের জন্ম দিলে তাকেও সিটিজেনশিপ দেয়া হবে না। উল্লেখ্য অনেকে সন্তান জন্ম দেয়ার উদ্দেশেই ডিউ ডেটের আগে আগে আমেরিকায় আসে ট্যুরিস্ট হিসাবে।
কিন্তু এই ক্ষেত্রেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে উক্ত নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে জজ ডেবোরাহ এই ইনজাংশন দিলেন।
কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন মেরিল্যান্ডের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের এই রায়কে অপরিপক্ক বলে অভিহিত করলে জজ ডেবোরাহ তা প্রত্যাখ্যান করেন।
