প্রকৃতির গোছানো রবীন্দ্রজয়ন্তী

বাঙালী প্রতিবেদনঃ নিউইয়র্কে বাঙালি সংস্কৃতি চর্চা এবং রবীন্দ্র সংগীতের একটি স্বনামধন্য সংগঠন প্রকৃতি রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন করল গত রবিবার সন্ধ্যায় উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে। শুরুতেই শিল্পীরা যখন মঞ্চে দুই সারিতে প্রস্তুত তখন আবৃত্তিকার মৃদুল আহমেদের আহবানে মঙ্গল প্রদীপ জ্বেলে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করলেন সংগীত শিল্পী শিক্ষক অনুপ বড়য়া। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের পর তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানান। এরপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্বে রবীন্দ্রনাথের ১৯৩০ সালে ম্যানহ্যাটানে পদার্থবিদ আলবার্ট আইনস্টাইনের সাথে সাক্ষাৎ এবং এই সাক্ষাৎ নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের খবরের শিরোনামে চারবারএমঅক্ষরের শব্দ ব্যবহার নিয়ে উদ্ভুত আলোচনার বিষয়টি সুন্দরভাবে তুলে ধরেন রতন ধর। এই শিরোনামটি ছিল গধঃযবসধঃরপরধহ ধহফ গুংঃরপ গববঃ রহ গধহযধঃঃধহ তাদের আলোচনায় বিজ্ঞান, দর্শন, ধর্ম অবজেকটিভ রিয়েলিটির ধারণা নিয়েও তিনি সংক্ষেপে আলোকপাত করেন। কবি হাসানআল আবদুল্লাহও তার অভিজ্ঞতার আলোকে বিভিন্ন দেশে রবীন্দ্রনাথ যেভাবে আলোচিত হন তা তুলে ধরেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন . প্রদীপ রঞ্জন কর।

এরপর কবিকে শ্রদ্ধা এবং উপস্থিত দর্শকদের স্বাগত জানিয়ে সমবেত কণ্ঠে প্রকৃতির শিল্পীরাহে নূতন দেখা দিক আরবারগেয়ে শুভ সূচনা কনে। দ্বিতীয় পরিবেশনা ছিল মহাঢ্য কণ্ঠের আবৃত্তিকার মিথুন আহমেদেরপৃথিবীকবিতা আবৃত্তি। তারপর সমবেত কণ্ঠে জয় তব বিচিত্র আনন্দ হে কবি জয় তোমার গেয়ে মুগ্ধ করেন শিল্পীরা। পুরো অনুষ্ঠানে মোট ২৬টি গান পরিবেশিত হয়। এর মধ্যে ১২টি সমবেত কণ্ঠে আর ১৪টি একক কণ্ঠে। একক কণ্ঠের গানগুলি পরিবেশন করেন ধারাক্রম অনুসারে নাসিমা শাহীন, দিঠি হাসনাত, মৌগন্ধা আচার্য্য, কার্তিক চন্দ্র, চন্দ্রিকা দে সেঁজুতি, মুক্তি সরকার, মিনি কাদির, জলি কর, শমিষ্ঠা মৌ, রূপালি ঘোষ, জোসেফিন মিষ্টি, সোনিয়া মুত্তালিব রেজা রহমান।

সমবেত কণ্ঠে গাওয়া অন্য গানগুলো হচ্ছে আকাশ ভরা সূর্যতারা, বিশ্ববীণারবে বিশ্বজন মোহিছে, তোমার পতাকা যারে দাও তারে বহিবার দাও শকতি, মহাবিশ্বে মহাকাশে মহাকাল মাঝে, তোর আপনজনে ছাড়বে তোরে, শুনলো শুনলো বালিকা, ঝরোঝরো ঝরোঝরো ঝরে রঙের ঝরনা, অন্ধকারের উৎস হতে, এবং বাঁধ ভেঙে দাও। সব শেষে পরিবেশিত হয় জাতীয় সংগীত।

সমবেত কণ্ঠে গাওয়া গানগুলির নির্বাচন ভাল এবং গায়কীতেও চর্চার প্রতিফলন লক্ষণীয় ছিল। দুটি সমবেত কণ্ঠে গাওয়া গানের সাথে নাচ ছিল। এই গান দুটি হলো বিশ্ববীণারবে বিশ্বজন মোহিছে এবং ঝরোঝরো ঝরোঝরো ঝরে রঙের ঝরনা। কিন্তু নাচ দুটি মঞ্চের সামনে ফ্লোরে পরিবেশিত হওয়ায় তৃতীয় সারির পিছনের দর্শকরা তা দেখতে ব্যর্থ হয়েছে।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটানা গান নাচ ছাড়াও ছিল অসীম সাহা নাজনীন সীমনের ধারাবর্ণনা। তারা অবশ্য কয়েকটি গানকে নির্বাচন করে সেসব গানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।

এই অনুষ্ঠানে তবলায় সংগত করেন পিনাকপানি গোস্বামী, কীবোর্ডে মাসুদ রহমান, মন্দিরায় শহীদ উদ্দিন।

Related Posts